পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী চৌধুরী ও তার পরিবারের বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেন নিয়ে তদন্তে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ উঠেছে, তার পরিবারসহ স্বার্থসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে খোলা ১৪৬টি ব্যাংক হিসাবে ৮ হাজার কোটি টাকারও বেশি সন্দেহজনক লেনদেন হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) প্রাথমিক অনুসন্ধানে এই অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুন থেকে শওকত আলী চৌধুরীর পরিবারের সব ব্যাংক হিসাব জব্দ অবস্থায় রয়েছে।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানান, “অভিযোগ আমরা পেয়েছি। বর্তমানে যাচাই-বাছাই কমিটি বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শওকত আলী চৌধুরী, তার স্ত্রী ন্যাশনাল লাইফ ইন্স্যুরেন্সের ভাইস চেয়ারম্যান তাসমিয়া আম্বারীন, মেয়ে জারা নামরীন ও ছেলে জারান আলী চৌধুরীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে ১৮৭টি হিসাব খোলা ছিল। ২০২৪ সালের ১৫ জুন পর্যন্ত এসব হিসাবে জমা হয় ৮ হাজার ৪০৭ কোটি ৯১ লাখ টাকা, যার মধ্যে উত্তোলন করা হয়েছে প্রায় পুরো অর্থই। বর্তমানে ওই হিসাবে স্থিতি রয়েছে ১ হাজার ৭৩ কোটি টাকার মতো।
বিশেষভাবে আলোচিত হয় শওকত আলীর ঢাকা ব্যাংকের প্লাটিনাম হিসাব। ২০০৪ সালে খোলা এবং ২০১৭ সালে বন্ধ হওয়া এই হিসাবে মোট জমা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৯৮৮ কোটি টাকা এবং প্রায় সমপরিমাণ অর্থ উত্তোলনও করা হয়েছে। বিএফআইইউ মনে করছে, এই লেনদেনগুলো তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এসএন কর্পোরেশনের মাধ্যমে ট্যাক্স ফাঁকির উদ্দেশ্যে হতে পারে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, শওকত আলী চৌধুরী পরিবারের নামে সিঙ্গাপুর, দুবাই ও যুক্তরাজ্যে বিলাসবহুল সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে সিঙ্গাপুরে দুইটি বাড়ির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এই বিদেশি সম্পদ নিয়েও বিএফআইইউ অনুসন্ধান চালাচ্ছে।
সূত্র মতে, শওকত আলীর সঙ্গে সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, পদ্মা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান চৌধুরী নাফিজ সরাফতসহ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির আর্থিক লেনদেনের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে তিনি রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক সুবিধাবাদী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে বিপুল সম্পদ গড়েছেন।