বাংলাদেশে টাইফয়েড জ্বরের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার আগামী ১২ অক্টোবর থেকে দেশব্যাপী টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু করছে। এই উদ্যোগ ইপিআই কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হবে এবং শিশুদের বিনামূল্যে টাইফয়েড টিকা প্রদান করা হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রেস ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এই টিকা শুধু সাধারণ টাইফয়েড নয়, বরং ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েডের বিস্তারও রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত এই টিকা নিরাপদ ও কার্যকর, যা শিশুদের জীবন রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে টাইফয়েডজনিত অসুস্থতা ও মৃত্যুহার কমাতে সহায়তা করবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৯ সালের তথ্যানুসারে, প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয় এবং এর মধ্যে মৃত্যু ঘটে প্রায় ১,১০,০০০ জনের। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যার বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার মানুষ। বাংলাদেশে ২০২১ সালে প্রায় ৪ লাখ ৭৮ হাজার মানুষ টাইফয়েডে আক্রান্ত হয়, এবং প্রায় ৮,০০০ জন মারা যান, যাদের ৬৮ শতাংশ শিশু।
টাইফয়েড রোগ স্যালমোনেলা টাইফি জীবাণুর মাধ্যমে ছড়ায়, যা দূষিত পানি ও খাবারের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। ঝুঁকি বেশি থাকে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং যেখানে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন নেই। এছাড়া, চিকিৎসায় ব্যবহৃত অনেক অ্যান্টিবায়োটিক কার্যকর নয়, ফলে ওষুধ প্রতিরোধী টাইফয়েড ক্রমশ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই টিকাদান কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে টাইফয়েড রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। পাশাপাশি শিশুদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন জীবনধারা গড়ে তুলতে জনসচেতনতা কার্যক্রমও চালানো হবে।