চট্টগ্রাম বন্দরের নতুন মাশুল কাঠামো কার্যকর হচ্ছে। বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে (১৪ সেপ্টেম্বর) নতুন মাশুল গেজেট প্রকাশ করা হয়। গেজেট অনুযায়ী সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) থেকে এ নতুন মাশুল কার্যকর হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বন্দরের ভেতরে প্রবেশের জন্য প্রতি গ্রজ টনে ০.৩০৬ ডলার, পোর্ট লিমিটের মধ্যে লাইটার ও ট্যাংকারের ভ্যাসেল ওয়ার্কিং চার্জ প্রতি গ্রজ টনে ০.১৭ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিপজ্জনক পণ্য পরিবহনকারী (Dangerous Goods) জাহাজের জন্য নির্ধারিত চার্জের ওপর ২৫ শতাংশ, ডেড ভ্যাসেলের জন্য ৫০ শতাংশ, লাইটারেজের জন্য ৫০ শতাংশ এবং বিলম্বিত অবস্থান (ডিলে/ওভার স্টে) এর জন্য ৫ শতাংশ অতিরিক্ত মাশুল আরোপ করা হবে।
পাইলটিং চার্জের মধ্যে প্রতিটি মুভমেন্টে ন্যূনতম ৮০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ হাজার গ্রজ টনের বেশি ভ্যাসেলের জন্য প্রতি গ্রজ টনে ০.০৮ ডলার চার্জ ধার্য হয়েছে। যদি জাহাজ ব্রেকিং জার্নি করে তবে নির্ধারিত চার্জের ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত মাশুল দিতে হবে। প্রবেশ বাতিল করলে প্রতিবার ২০০ ডলার, নাইট নেভিগেশনের জন্য ২৫ শতাংশ এবং বার্থ শিফটিংয়ের জন্য প্রতি মুভমেন্টে ৮০ ডলার মাশুল দিতে হবে। কর্ণফুলী নদীর বাইরের এলাকায় পাইলটিং করলে নির্ধারিত চার্জের ওপর ৫০ শতাংশ বেশি মাশুল দিতে হবে।
টাগ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিস্তারিত মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—২০০ টন থেকে ৫ হাজার গ্রজ টন পর্যন্ত কর্ণফুলীর মধ্যে ৬১৫ ডলার, বাইরে ১২৩০ ডলার। ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টনের জন্য কর্ণফুলীর ভেতরে ১২৩০ ডলার, বাইরে ২৪৬০ ডলার। এভাবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টনের ওপরের ভ্যাসেলের ক্ষেত্রে ভেতরে ৩৪১৫ ডলার ও বাইরে ৬৮৩০ ডলার চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বার্থিংয়ের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রজ টনে প্রতি ঘণ্টায় ০.০০৪ ডলার, প্রতিবারে আনবার্থিংয়ের জন্য ৯৪.৩২ ডলার ধার্য করা হয়েছে। সমুদ্রগামী জাহাজের দৈনিক মাশুল ২২৪.৮৫ ডলার এবং নন-সমুদ্রগামী জাহাজের দৈনিক মাশুল ২২.৪৯ ডলার। নির্ধারিত সময় পরেও বার্থে অবস্থান করলে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত ১০০ শতাংশ, ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত ৩০০ শতাংশ, ৩৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ৪০০ শতাংশ এবং ৩৬ ঘণ্টার বেশি দেরি হলে ৯০০ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত চার্জ দিতে হবে।
পানি সরবরাহের ক্ষেত্রেও নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—মেইন সাপ্লাই লাইন থেকে প্রতি ১ হাজার লিটারের জন্য ২.৯২ ডলার, বন্দরের লরি দিয়ে সরবরাহ (৫ কিমি পর্যন্ত) ৬.২৩ ডলার, ৫ কিমির ওপরে ৮.২৩ ডলার। ওয়াটার বোটের মাধ্যমে কর্ণফুলীর ভেতরে ১২.৪৬ ডলার এবং পতেঙ্গা লাইট হাউজ থেকে ৭ নটিক্যাল মাইলের বাইরে সরবরাহে ২৪.৯৬ ডলার চার্জ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওয়েস্ট হ্যান্ডলিং চার্জ কর্ণফুলীর ভেতরে প্রতিবার ২৪৫৬.৯৯ ডলার এবং বাইরে ৪০৬৩.১৫ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া বন্দরের ক্রেন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ভিন্ন ভিন্ন হারে মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে। যেমন—২১ ফুটের নিচে কনটেইনার উত্তোলনে ২০.৮০ ডলার, ২১–৪০ ফুটে ৩১.২০ ডলার এবং ৪০ ফুটের বেশি কনটেইনারে ৩৫.১০ ডলার চার্জ দিতে হবে। খালি কনটেইনারের ক্ষেত্রে ভিন্ন হার ধরা হয়েছে। জেটি ক্রেন ব্যবহার করলে ১০ টনের নিচে প্রতি ৮ ঘণ্টায় ৫৮.২৪ ডলার, ১০–৪০ টনে ১৭৪.৭২ ডলার এবং ৪০ টনের ওপর ২৯১.২০ ডলার মাশুল দিতে হবে।