বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন দিকের দিকে এগোচ্ছে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক আরও কমতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
সোমবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ ফর সাউথ অ্যান্ড সেন্ট্রাল এশিয়া ব্রেন্ডেন লিঞ্চ এর নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, বাংলাদেশের লক্ষ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি নিম্নমুখী করা। যদি এই লক্ষ্য অর্জন করা যায়, তবে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়। তিনি আরও জানান, দ্রুত পাল্টা শুল্ক–সংক্রান্ত একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মার্কিন প্রতিনিধি দল ঢাকায় অবস্থানকালে মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গেও বৈঠক করবে।
মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, গত ৭ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের জন্য পাল্টা শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়েছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। ঢাকা চাইছে এ হার কমপক্ষে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে। এ লক্ষ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইউএসটিআরের কাছে সময় চেয়েছিল। এর প্রেক্ষিতে ব্রেন্ডেন লিঞ্চের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ঢাকায় এসেছে।
কর্মকর্তারা জানান, আলোচনার ভিত্তিতে একটি বাণিজ্য চুক্তির খসড়া তৈরি হয়েছে। নতুন করে দরকষাকষির পর দুই পক্ষ একমত হলে খসড়ায় সংশোধন এনে তা চূড়ান্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিল। পরে তা ৩৫ শতাংশে নামানো হয়। ওয়াশিংটনে তৃতীয় দফার আলোচনার পর গত ৩১ জুলাই এ হার কমিয়ে ২০ শতাংশে আনা হয়।