ভারতীয় বাংলা সিনেমার জনপ্রিয় নায়িকা শ্রাবন্তী চ্যাটার্জি সবসময়ই আলোচনায় থাকেন ব্যক্তিগত জীবন, সম্পর্ক ও ক্যারিয়ার নিয়ে। খুব অল্প বয়সে মা হওয়া শ্রাবন্তীর জীবনে ছেলের উপস্থিতি অনেকটা বন্ধুর মতো। মাত্র ১৬ বছরের ব্যবধান থাকায় ছেলে অভিমন্যু চ্যাটার্জি (ঝিনুক) যেন তার সহযাত্রী হয়েই বেড়ে উঠেছেন।
সামনে দুর্গাপূজা। দীর্ঘ ১০ বছর পর মুক্তি পাচ্ছে শ্রাবন্তী অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত সিনেমা ‘দেবী চৌধুরাণী’। এ উপলক্ষে ভারতীয় এক গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উঠে আসে তার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের নানা গল্প।
সাক্ষাৎকারে যখন জানতে চাওয়া হয়—ছেলের বন্ধুরা তাকে ‘আন্টি’ বলে ডাকে কি না, তখন শ্রাবন্তী হেসে বলেন,
“ছেলের বন্ধুরা তো আমারও বন্ধু! দু-একজন ছাড়া কেউ ‘আন্টি’ বলে না, সবাই আমাকে দিদি বলেই ডাকে।”
শ্রাবন্তীর মতে, জেন-জেড প্রজন্মের সঙ্গে তার দারুণ বোঝাপড়া। ছেলে ও ওর বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে তিনি বুঝতে পারেন নতুন প্রজন্মের চিন্তা-ভাবনা, লিঙ্গসাম্য নিয়ে তাদের সচেতনতা, এমনকি তাদের সহজ ভাষা। তিনি বলেন—
“নতুনদের জন্য আমার বার্তা হলো—প্রথম কাজ যদি ভালো না হয়, মন খারাপ না করে পরেরটা ভালো করার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।”
শ্রাবন্তীর ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা সবসময়ই আলোচনায় থাকে। এক প্রিমিয়ারে তার প্রাক্তন স্বামী রাজীব বিশ্বাসের উপস্থিতি নিয়েও হয়েছিল জোর আলোচনা। সে বিষয়ে শ্রাবন্তী হাসতে হাসতে বলেন—
“আমি আর ঝিনুক তো হেসেই খুন। ঝিনুক ওর বাবাকেও বলেছে। ওর বাবা বলেছেন, আমি যে কোথায় যাব!”
ছেলে অভিমন্যু বা ঝিনুক এসব নিয়ে একদমই বিচলিত হয় না। শ্রাবন্তী জানান—
“ঝিনুক সমালোচনা, ট্রোল বা তর্ক-বিতর্ক থেকে অনেক দূরে থাকে। ফেসবুকে নেই, শুধু ইনস্টাগ্রামে আছে। ও মজার রিল দেখে সময় কাটায়, এর বেশি কিছু নয়।”
ব্যক্তিগত জীবনে শ্রাবন্তীর রয়েছে নানা উত্থান-পতন। ২০০৩ সালে পরিচালক রাজীব বিশ্বাসকে বিয়ে করেন তিনি। তাদের একমাত্র সন্তান অভিমন্যু। রাজীবের সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর অভিনেত্রী ২০১৬ সালে বিয়ে করেন কৃষাণ ভিরাজকে। তবে এক বছরের মধ্যেই বিচ্ছেদ হয়। এরপর ২০১৯ সালে রোশান সিংয়ের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও ২০২৫ সাল নাগাদ সেটিও ভেঙে গেছে।
শ্রাবন্তীর নিজের ভাষায়—“ছেলেকে নিয়েই আমার দুনিয়া। যত সমালোচনা, বিতর্ক বা ট্রোল আসুক না কেন, ঝিনুক আর আমি সবকিছু খুব সহজভাবে নিই।”