বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বিবেচনায় খেলাপি ঋণ পুনঃতপশিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ দিয়েছে। নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, মাত্র ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট জমা দিয়ে খেলাপি ঋণ ১০ বছরের জন্য নিয়মিত করা যাবে। পাশাপাশি থাকবে ২ বছরের গ্রেস পিরিয়ড এবং খাতভেদে সর্বনিম্ন সুদের হারের চেয়ে এক শতাংশ কম সুদে পরিশোধের সুবিধা।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এ সংক্রান্ত সার্কুলার সব ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, এখন থেকে ব্যাংকগুলো নিজেরাই এসব ঋণ পুনঃতপশিল বা পুনর্গঠনের সুযোগ দিতে পারবে। তবে ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাছাই কমিটির অনুমোদন লাগবে।
আবেদনের সময়সীমা: ঋণগ্রহীতাদের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন করতে হবে।
নিষ্পত্তির সময়: আবেদন পাওয়ার ৬ মাসের মধ্যে ব্যাংককে নিষ্পত্তি করতে হবে।
ডাউন পেমেন্ট: তিন বা তার বেশি পুনঃতপশিলকৃত ঋণে অতিরিক্ত ১% ডাউন পেমেন্ট আদায় বাধ্যতামূলক।
নীতি সহায়তা: বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি লাগবে না, তবে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিতে হবে।
বড় ঋণ: ৩০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ হলে আন্তঃব্যাংক সভার কার্যবিবরণীসহ বাছাই কমিটিতে আবেদন পাঠাতে হবে।
জালিয়াতি ঋণ: প্রতারণা বা ইচ্ছাকৃত খেলাপির ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বিশেষ সুবিধাপ্রাপ্ত ঋণগুলোকে এসএমএ হিসেবে শ্রেণীকরণ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রভিশন সংরক্ষণ করতে হবে। প্রকৃত আদায় ছাড়া আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না।
কোনো গ্রাহক চাইলে পুনর্গঠন বা এককালীন এক্সিট সুবিধাও নিতে পারবে। তবে ব্যাংককে অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের বাস্তব ক্ষতি এবং ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা বিবেচনায় আনতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, বিগত সরকারের সময়ে বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতপশিলের নানা সুযোগ দিয়ে খেলাপি ঋণ কম দেখানো হতো। কিন্তু সরকার পতনের পর খেলাপি ঋণ দ্রুত বেড়ে এখন ৫ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। নতুন নীতি অনুসারে, ব্যাংকগুলো নিজেরাই এই ঋণ ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব নেবে।