শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ডিমের দাম বাড়ল সবজির সংকটে, স্বস্তিতে খামারিরা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৯৭ পড়া হয়েছে
ডিমের দাম বাড়ল সবজির সংকটে, স্বস্তিতে খামারিরা

ডিমের দাম বাড়ল সবজির সংকটে, স্বস্তিতে খামারিরা

সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টিপাতে দেশের বহু অঞ্চলে সবজির খেত প্লাবিত হয়েছে। ফলে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গিয়ে দাম হঠাৎ বেড়ে যায়। সবজির এই অস্বাভাবিক দামের কারণে সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে ডিমের দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে বাজারে ডিমের চাহিদা বাড়ায় দামও ঊর্ধ্বমুখী।

গত কয়েক মাস ধরে ডিমের দাম কম থাকায় খামারিরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু এখন দাম বাড়ায় তারা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছেন।

টাঙ্গাইলের সখিপুরের গোবিন্দপুর এলাকার খামারি জাহিদুল ইসলাম (৩৮) জানান, তিনি গত ১৫ বছর ধরে লেয়ার খামার চালাচ্ছেন। তার খামারে ৮,৫০০ মুরগি আছে। সম্প্রতি তিনি প্রতিটি ডিম ৯ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিক্রি করছেন, যেখানে উৎপাদন খরচ প্রতি ডিম প্রায় ১০ টাকা ২৫–৫০ পয়সা। কয়েক মাস আগে ডিম প্রতি ৭ টাকা দরে বিক্রি করতে গিয়ে গড়ে ২ থেকে ২.৫ টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। খামার টিকিয়ে রাখতে তাকে ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছে।

তিনি বলেন, “সবজি, মাংস ও মাছের দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি ডিম কিনছেন। তাই বাজারে দাম বাড়ছে।”

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিদিন প্রায় ৪.৫ কোটি ডিম উৎপাদিত হয়। অথচ দৈনিক চাহিদা ৫ কোটি ডিমের। গ্রামীণ পরিবারের গৃহপালিত মুরগির ডিমের সংখ্যা নির্দিষ্টভাবে নিরূপণ করা না গেলেও চাহিদা-সরবরাহের এ ঘাটতিই বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ।

মধুপুরের খামারি মজনু মিয়া জানান, ডিমের কম দামে অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন, যার ফলে উৎপাদন প্রায় ১৫–২০ শতাংশ কমেছে। তিনি বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রান্তিক খামারিদের টিকে থাকতে হলে ফার্মগেট পর্যায়ে প্রতি ডিম কমপক্ষে ১১ টাকায় বিক্রি করতে হবে।”

ইদিলপুরের শিক্ষার্থী সাব্বির হোসেনও জানান, তাদের পারিবারিক খামার লোকসান থেকে মুক্ত হয়নি। তার মতে, দাম কিছুটা বেড়েছে বটে, তবে এই প্রবণতা কয়েক মাসের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে।

স্থানীয় পর্যায়ে ডিম সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে সরবরাহ করা ব্যবসায়ী জাহিদুল ইসলাম জানান, তিনি প্রতিদিন প্রায় ৪০ হাজার ডিম গাজীপুর ও ঢাকায় সরবরাহ করেন। তিনি দামের ওঠানামায় কোনো সিন্ডিকেটের ভূমিকা অস্বীকার করে বলেন, “কখনো কেউ আমাকে দাম বাড়াতে বা কমাতে বলেনি।”

ঘাটাইলের ব্যবসায়ী রহিম উদ্দিনও জানান, গত শীতকালে সবজির সরবরাহ বেশি থাকায় ডিমের চাহিদা কমে গিয়েছিল। সে সময় প্রতি ডিম ৭ টাকায় কিনেও তিনি পাইকারি বাজারে বেশি দামে বিক্রি করতে পারেননি।

বাংলাদেশ ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, “ডলারের উচ্চমূল্য, খাদ্য উপকরণের বাড়তি দাম ও উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির কারণে ডিমের বাজারে অস্থিরতা ছিল। সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে গিয়ে খামারিরা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।” তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, খামারিদের উৎপাদন খরচের সঙ্গে কমপক্ষে ৩০% মুনাফা যোগ করে বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024