বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, “কৃষি শুধুমাত্র কৃষকের জীবিকা নয়, এটি পুরো জাতির খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাই প্রকৃত কৃষকদের কাছে সহজ শর্তে কৃষিঋণ পৌঁছে দেওয়া এবং ব্যাংকিং সেবা সহজ করা আমাদের প্রধান লক্ষ্য। ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকরা আরও সুবিধা পাবে।”
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসি (ইউসিবি) আয়োজিত ‘কৃষি উদ্যোক্তা সমাবেশ ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে জেলার প্রায় ৩০০ জন কৃষি উদ্যোক্তা অংশ নেন।
ড. মনসুর আরও বলেন, কৃষিঋণ শুধু উৎপাদন বাড়ায় না, বরং গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষক জীবনের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সতর্ক করে বলেন, পর্যাপ্ত সহায়তা না দিলে কৃষিপণ্য উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহীর বলেন, “আমরা দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য কৃষি উদ্যোক্তাদের স্বাবলম্বী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ধরনের প্রশিক্ষণ কৃষকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে।”
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ মামদুদুর রশীদ বলেন, “আমরা শুধু ঋণ দিচ্ছি না; উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ নিয়ে আত্মনির্ভরশীল হোক এবং দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখুক, সেটাই লক্ষ্য।”
দিনব্যাপী এই সমাবেশে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো: মকবুল হোসেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. বিমল কুমার প্রামানিক, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ এম খালেকুজ্জামান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা, এবং ভরসার নতুন জানালা প্রকল্পের সমন্বয়ক রেজাউল করিম সিদ্দিক।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা জানালেন, সফল হওয়ার জন্য বাজার বিশ্লেষণ, ব্যবসা পরিকল্পনা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনা জানা জরুরি। এছাড়া ব্যাংকের সঙ্গে সুসম্পর্ক এবং ঋণ ও সহায়তার সুযোগগুলো কাজে লাগানোর নির্দেশনা পেয়েছেন তারা।
ইউসিবির এগ্রো সিএসআর প্রকল্প ‘ভরসার নতুন জানালা’ এর মাধ্যমে সারা দেশে ৬৪ জেলায় প্রায় ১৪,০০০ কৃষককে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এতে কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবাদি পশুর ভ্যাকসিনেশন, উন্নত বীজ বিতরণ, কৃষি যন্ত্রপাতি সরবরাহ, বৃক্ষরোপণ, জলবায়ু-সহিষ্ণু প্রযুক্তি, মাছ চাষ ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে সরঞ্জাম বিতরণ অন্তর্ভুক্ত।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং ব্যাংকিং সিস্টেমে অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।