শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বৈদেশিক ঋণ নতুন রেকর্ডে, মাথাপিছু ঋণ ৭৭ হাজার টাকা ছাড়াল

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭২ পড়া হয়েছে
বৈদেশিক ঋণ নতুন রেকর্ডে, মাথাপিছু ঋণ ৭৭ হাজার টাকা ছাড়াল

বৈদেশিক ঋণ নতুন রেকর্ডে, মাথাপিছু ঋণ ৭৭ হাজার টাকা ছাড়াল

বাংলাদেশের ইতিহাসে বৈদেশিক ঋণের অঙ্ক আবারও নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে দেশের মোট বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে ১১২.১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে এ অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ১৩ লাখ ৬৮ হাজার ৩৫২ কোটি টাকা। এর ফলে দেশের প্রতি নাগরিকের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩৮ ডলার বা ৭৭ হাজার ৪৩৩ টাকা।

শুধু ছয় মাসের ব্যবধানে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮৪৩ কোটি ডলার। গত মার্চে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ১০৪.৮ বিলিয়ন ডলার, যা জুন শেষে বেড়ে দাঁড়ায় ১১২.১৬ বিলিয়ন ডলারে। আর ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে এই ঋণ ছিল ১০৩.৭৩ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদদের মতে, অবকাঠামো প্রকল্পে ব্যাপক ঋণ গ্রহণ, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে এই ঋণের অঙ্ক দ্রুত বাড়ছে। এর পাশাপাশি রপ্তানি আয় ও প্রবাসী আয়ের তুলনায় সুদ ও কিস্তি পরিশোধের চাপও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

বর্তমান সরকারের প্রায় সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বৈদেশিক ঋণ বেড়েছে প্রায় ৮১ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফ, বিশ্বব্যাংক, এডিবি, জাইকা, এআইআইবি সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। সরকারি খাতের ঋণের অংশ ৮২ শতাংশ, আর বেসরকারি খাতের অংশ ১৮ শতাংশ। জুন শেষে সরকারি খাতের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ২৩৭ কোটি ডলার, যেখানে বেসরকারি খাতের ঋণ ১,০৯৭ কোটি ডলার।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, বৈদেশিক ঋণের বড় অংশ উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যবহৃত হলেও কিছু প্রকল্পে অপচয় হয়েছে, যা বন্ধ করা জরুরি। তার মতে, জিডিপি অনুপাতে ঋণ এখনো সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর সুদ ও কিস্তির চাপ দ্রুত বাড়ছে। তাই কাঠামোগত সংস্কার ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত প্রয়োজন।

গত এক দশকে দেশের বৈদেশিক ঋণ প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ঋণ ছিল ৪১.১৭ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৫ সালের জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ১১২ বিলিয়ন ডলারে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ১০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করে।

তবে ইতিবাচক দিক হলো, বৈদেশিক ঋণের চাপের মধ্যেই রিজার্ভ কিছুটা স্থিতিশীলতা পেয়েছে। প্রবাসী আয় বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডলারের বিনিময় হারও কিছুটা স্থিতিশীল হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024