জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) দেশের পাঁচ শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে “ই-রিটার্ন চ্যাম্পিয়ন সার্টিফিকেট” প্রদান করেছে। কর ব্যবস্থা ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মাননা দেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লা মেরিডিয়েন হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়। এই উদ্যোগটি এনবিআরের বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো (বিএসডব্লিউ) প্রকল্পের আওতায় বাস্তবায়িত হয়।
পুরস্কারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলো হলো— বিএটি বাংলাদেশ, সোনালী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, রেনাটা ফার্মাসিউটিক্যালস, এবং ব্যুরো বাংলাদেশ। সরকারের অটোমেশন কর্মসূচি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান এবং কর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক সহায়তার কারণে প্রতিষ্ঠানগুলো এই স্বীকৃতি অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিএসডব্লিউ প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে পাঁচ লাখেরও বেশি সার্টিফিকেট, লাইসেন্স ও পারমিট (সিএলপি) ইস্যু হয়েছে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্যে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে এবং জটিলতা কমেছে।
চালু হওয়ার পরপরই বিএটি বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এই কাগজবিহীন পদ্ধতি ব্যবহার শুরু করে। এতে ব্যক্তি বা সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই সরকারি কাজ সম্পন্ন হওয়ায় দুর্নীতি, হয়রানি এবং অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ কমেছে। পাশাপাশি আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় সময় ও খরচ সাশ্রয় হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে সরকার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো প্রকল্প চালু করে। বর্তমানে এর আওতায় ১৯টি সরকারি সংস্থা একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিএসডব্লিউ সফটওয়্যার এবং অ্যাডভান্সড রিস্ক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এআরএমএস)।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে সরকার ঘোষণা দেয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে সাতটি সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে হাতে লেখা বা ম্যানুয়াল সিএলপি আর গ্রহণযোগ্য হবে না। বাধ্যতামূলকভাবে বিএসডব্লিউ সিস্টেমের মাধ্যমে নথি জমা দিতে হবে।
এই স্বীকৃতির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো দেশের ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার যাত্রায় অবদান রাখছে।