শেয়ারবাজারে কারসাজি, প্রতারণা ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে করা মামলায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ পিছিয়েছে। আগামী ২৬ নভেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন। সেদিন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আবেদন মঞ্জুর করে নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় সাকিব আল হাসান ছাড়াও আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন সমবায় অধিদফতরের উপ-নিবন্ধক আবুল খায়ের, তার স্ত্রী কাজি সাদিয়া হাসান, আবুল কালাম মাদবর, কনিকা আফরোজ, মোহাম্মদ বাশার, সাজেদ মাদবর, আলেয়া বেগম, কাজি ফুয়াদ হাসান, কাজি ফরিদ হাসান, শিরিন আক্তার, জাভেদ এ মতিন, জাহেদ কামাল, হুমায়ূন কবির ও তানভীর নিজাম।
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, আসামিরা নিজেদের স্বার্থে একাধিক বিও অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে অবৈধভাবে সিরিজ ট্রানজেকশন, প্রতারণামূলক অ্যাকটিভ ট্রেডিং, গেম্বলিং ও স্পেকুলেশনের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে কারসাজি করেন। এতে নির্দিষ্ট কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম কৃত্রিমভাবে বাড়িয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের প্রতারণা করা হয়। এতে বিপুল অর্থ ক্ষতির শিকার হন বিনিয়োগকারীরা।
এই প্রক্রিয়ায় মোট ২৫৬ কোটি ৯৭ লাখ ৭০ হাজার ৩০৪ টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে। এর মধ্যে আবুল খায়ের (হিরু) তার স্ত্রী কাজি সাদিয়ার সহায়তায় প্রায় ৩০ কোটি টাকার উৎস গোপন করে বিভিন্ন খাতে স্থানান্তর করেন। তাছাড়া তার নামে পরিচালিত ১৭টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৫৪২ কোটিরও বেশি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, আবুল খায়েরের কারসাজিকৃত প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড এবং সোনালী পেপারস লিমিটেডের শেয়ারে সাকিব আল হাসান বিনিয়োগ করেন। এতে তিনি মার্কেট ম্যানুপুলেশনে প্রত্যক্ষভাবে সহযোগিতা করে প্রায় ২ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ মুনাফা উত্তোলন করেন।