অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, সঠিকভাবে ব্যবহৃত হলে সুকুক ব্যাংক খাতের ওপর চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের সুকুক রয়েছে, তবে এর বেশিরভাগই সরকারি প্রকল্পে ব্যবহৃত হচ্ছে। বেসরকারি খাত চাইলে এই আর্থিক টুল অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবসায়িক বিনিয়োগেও কাজে লাগাতে পারে।
সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ভবনে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, শেয়ারবাজারের অনেক ছোট বিনিয়োগকারী মনে করেন বিনিয়োগ করলেই নিশ্চিত মুনাফা হবে। কিন্তু তারা বাজারের ঝুঁকি স্বীকার করতে চান না। এজন্য ডিএসই ও বিএসইসিকে ছোট বিনিয়োগকারীদের আরও ভালোভাবে সচেতন ও শিক্ষিত করতে হবে। তিনি মনে করিয়ে দেন, শেয়ার, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা সিকিউরিটিজে বিনিয়োগের সঙ্গে ঝুঁকি সবসময় জড়িত থাকে।
ড. সালেহউদ্দিন বলেন, বাংলাদেশের আর্থিক খাত অতিমাত্রায় ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরশীল। সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতই ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়, কিন্তু অনেক সময় পরিশোধ না করেও পার পেয়ে যায়। এটিকে দেশের অর্থনীতির বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বড় অবকাঠামো প্রকল্প যেমন এমআরটি (মাস র্যাপিড ট্রানজিট) বাস্তবায়নে সিকিউরিটাইজেশন দরকার, যেগুলোর জন্য হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.২ শতাংশ, যেখানে ব্রাজিলে এ হার ২৬ শতাংশ। ব্রাজিলে মানুষ ট্যাক্স দেয় এবং তার বিনিময়ে সেবা পায়। কিন্তু বাংলাদেশে ট্যাক্স দিলেও সমানুপাতিক সেবা মেলে না, যা সাধারণ মানুষের ক্ষোভের কারণ।
তিনি বলেন, “এনবিআর সদস্যদের প্রায়ই বলি—ভাই, আগে সেবা দিন। সেবা ভালো হলে মানুষ ট্যাক্স দিতেও আগ্রহী হবে। সেবা না দিয়ে মানুষকে ঘুরাতে থাকলে ট্যাক্স আদায় বাড়ানো সম্ভব না।”
ড. সালেহউদ্দিন আরও বলেন, বর্তমানে দেশের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সামাজিক নিরাপত্তা খাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন করতে না পারা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক খাতে বাড়তি বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “প্রকল্প করি ঠিকই, কিন্তু টাকা কোথায়?”
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান খোন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নিউ অর্লিন্স-এর অধ্যাপক এম কবীর হাসান।
এছাড়া বক্তব্য দেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক প্রমুখ।