যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস। একইসঙ্গে তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইসরাইলকে সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং দেশটির সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করার। খবরটি জানিয়েছে বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ।
রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, পশ্চিমা বিশ্বের এই স্বীকৃতি ফিলিস্তিনি জনগণের ভূমি ও পবিত্র স্থানের প্রতি অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার আকাঙ্ক্ষার পথে একটি বড় মাইলফলক। সংস্থাটি উল্লেখ করেছে, নতুন রাষ্ট্রের রাজধানী হবে আল-কুদস (জেরুজালেম)।
বিবৃতিতে হামাস এটিকে “জনগণের সংগ্রাম, অটলতা ও আত্মত্যাগের প্রাপ্য ফল” হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। তবে তারা জোর দিয়েছেন, এই স্বীকৃতি বাস্তব পদক্ষেপের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে। যার মধ্যে রয়েছে গাজা উপত্যকায় চলমান নৃশংসতা বন্ধ করা এবং পশ্চিম তীর ও আল-কুদসের দখল ও ইহুদিকরণ পরিকল্পনা প্রতিহত করা।
হামাস আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে:
ইসরাইলকে বিচ্ছিন্ন করা
দখলদার রাষ্ট্রের সব ধরনের সহযোগিতা বন্ধ করা
শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বৃদ্ধি করা
ইসরাইলি নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের জবাবদিহি নিশ্চিত করা
বিবৃতিতে ইসরাইলের আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক নীতিমালা অমান্য করার তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ‘ভয়াবহ অপরাধ’ উল্লেখ করা হয়েছে। হামাস পুনর্বার উল্লেখ করেছে, দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত একটি স্বাভাবিক অধিকার। তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সমর্থন দেয়ার জন্য।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যেই যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এবং পর্তুগাল ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ফ্রান্সসহ আরও কয়েকটি দেশ সামনের কয়েকদিনে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।