বাংলাদেশ সরকার আবারও রাইস ব্র্যান তেল রফতানির অনুমতি দিলো। দীর্ঘ আট মাস পর প্রথমবারের মতো ২৩টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৮ হাজার মেট্রিক টন রাইস ব্র্যান অয়েল বিদেশে পাঠানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এর মধ্যে মজুমদার এগ্রোটেক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং বগুড়া মাল্টি অয়েল মিলস লিমিটেড এককভাবে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টন করে রফতানির অনুমতি পেয়েছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিভিন্ন পরিমাণে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রফতানি-২ শাখা থেকে এ অনুমতিপত্র জারি করা হয়।
তবে রফতানিকারকদের জন্য কিছু শর্তও দিয়েছে সরকার। অভ্যন্তরীণ বাজার স্থিতিশীল রাখতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রাইস ব্র্যান অয়েল রফতানিতে ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রফতানির ক্ষেত্রে রফতানি নীতি ২০২৪-২৭ এর নিয়ম-কানুন কঠোরভাবে মানতে হবে। নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই রফতানি সম্পন্ন করতে হবে। এই অনুমতির মেয়াদ আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। অনুমোদিত পরিমাণের বেশি তেল রফতানি করলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জানুয়ারি থেকে সরকার রাইস ব্র্যান অয়েল রফতানিতে কড়াকড়ি আরোপ করে। দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে অনুমতি ছাড়া রফতানি বন্ধ করা হয়। এরপর থেকে নতুন করে কোনও প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটাই প্রথমবার সরকার পুনরায় রাইস ব্র্যান তেল রফতানির অনুমতি দিলো।
রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ৭৫ হাজার মেট্রিক টন রাইস ব্র্যান অয়েল বিদেশে রফতানি করা হয়েছিল। এর বিপরীতে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা এসেছে প্রায় ৯৭৪ কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এবার নতুন অনুমোদনের ফলে যেমন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলো উপকৃত হবে, তেমনি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।