দেশের সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নিত্যপণ্যের লাগামহীন দামের চাপের মুখোমুখি। বিভিন্ন প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, খাদ্য ও অন্যান্য পণ্যের উৎপাদন, মজুত ও সরবরাহে কোনো প্রকৃত সংকট না থাকা সত্ত্বেও খুচরা বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে। বিশেষ করে চালের বাজারে গত এক বছরে অস্থিরতা বেড়েছে। দেশ-বিদেশের তথ্য বিশ্লেষণ অনুযায়ী ভোক্তারা আশা করেছিলেন, চালের দাম কমবে; কিন্তু বাস্তবে দাম কমছে না, উলটো বাড়ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মিল মালিক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছেন। যদিও সরকার টিসিবির মাধ্যমে ভোক্তাদের স্বল্পমূল্যে পণ্য সরবরাহ করছে, তা সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতিতে যথেষ্ট প্রভাব ফেলছে না। অন্যদিকে, অযৌক্তিকভাবে পণ্য মজুত করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
বাজারে বিভিন্ন তদারকি সংস্থা থাকলেও ভোক্তারা তেমন সুফল পাচ্ছেন না। উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মধ্যবিত্তও হিমশিম খাচ্ছে, আর সীমিত ও প্রান্তিক আয়ের মানুষ এখন অসহায় হয়ে পড়েছে। অতীতে দেখা গেছে, ভরা মৌসুমেও চালের জন্য ভোক্তারা বিড়ম্বনার শিকার হয়েছেন। প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার প্রশ্রয়ে যারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার অস্থির করে, তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়েছে। বর্তমান অরাজনৈতিক সরকারের আমলে এই সিন্ডিকেট ভাঙা সহজ হলেও বাজারে ভোক্তাদের স্বস্তি মিলছে না।
অতএব, নিত্যপণ্যের বাজারের অস্থিরতা দূর করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সিন্ডিকেটের কারসাজিতে যে কেউ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়োপযোগী। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে না থাকলে গরিব মানুষ বাধ্য হয়ে খাদ্য খাওয়ায় কটূর্যতা স্বীকার করতে হচ্ছে। বাজার অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকারের দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।