হুন্ডি ও অবৈধ চ্যানেলের ব্যবহার কমে আসা, বৈধ পথে ডলার প্রেরণের সুযোগ বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং খাতে নানা প্রণোদনামূলক ব্যবস্থার কারণে প্রবাসীরা এখন নিয়মিতভাবে ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহার করছেন। এর ফলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে ৩১ দশমিক ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (বিপিএম-৬) পদ্ধতি অনুসারে বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২৬ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
বুধবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আইএমএফের হিসাব অনুযায়ী দেশের রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৬৩৯ কোটি ৩৩ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ৩ হাজার ১২৭ কোটি ৫৫ লাখ ৩০ হাজার ডলার।
এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আইএমএফের হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৪ লাখ ৬০ হাজার ডলার, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে তা দাঁড়িয়েছিল ৩ হাজার ১০০ কোটি ৩১ লাখ ডলার।
এদিকে চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে প্রবাসীরা ৭ হাজার ৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা গত অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ৫ হাজার ৯৭৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। শুধুমাত্র সেপ্টেম্বরের প্রথম ২৩ দিনেই রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১৬৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রেরণের প্রবণতা বাড়ায় ভবিষ্যতে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী হবে এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।