শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত, সরঞ্জাম সংকট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থা সমস্যার কারণ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৫২ পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত, সরঞ্জাম সংকট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থা সমস্যার কারণ

বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাত, সরঞ্জাম সংকট, দুর্নীতি ও অব্যবস্থা সমস্যার কারণ

দেশের স্বাস্থ্য খাত দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। এ সমস্যার মূলত দুটি দিক রয়েছে। প্রথমটি হলো চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মানবসম্পদ সংকট। হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স, ফার্মাসিস্ট, বেড, ওষুধ এবং অন্যান্য চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি নিত্যদিনের খবরের শিরোনাম হয়ে থাকে।

দ্বিতীয় সমস্যাটি হলো দুর্নীতি, অনিয়ম ও অব্যবস্থা। মেডিকেল কলেজে ভর্তি জালিয়াতি, ডাক্তার-নার্স-টেকনিশিয়ানের বদলি, স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন পর্যায়ে আর্থিক দুর্নীতি—স্বাস্থ্য খাতের প্রায় সব ক্ষেত্রেই এই সমস্যা বিদ্যমান।

চিকিৎসা সরঞ্জামের কেনাকাটায় দাম বেড়ে দেখানো, অপারেটর ছাড়া ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি ক্রয় করে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া—সবই দুর্নীতির উদাহরণ। বিশ্ব ফার্মাসিস্ট দিবস উপলক্ষ্যে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ৭০০ সরকারি হাসপাতাল থাকলেও গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টদের কোনো পদ নেই। বর্তমানে হাসপাতালে প্রধানত ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা দায়িত্ব পালন করছেন, অথচ গ্র্যাজুয়েট ফার্মাসিস্টরা রোগীদের সুরক্ষিত ওষুধ গ্রহণ নিশ্চিত করেন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

ত্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত একটি শ্বেতপত্রে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি রোগীদের সেবা গ্রহণে প্রভাব ফেলেছে। গ্রামীণ এলাকায় ৪৫ শতাংশ এবং শহরাঞ্চলে ৫১ শতাংশ রোগী দুর্নীতির শিকার হয়েছেন। ৬ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার স্বাস্থ্যসেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দিতে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত পণ্য কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়ায়ও ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণহীনতা রোগীদের স্বাস্থ্য ব্যয় বৃদ্ধি করছে। ওষুধ কোম্পানিগুলো চিকিৎসকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে, যাতে তারা ব্যয়বহুল ব্র্যান্ডেড ওষুধ লিখেন। ফলে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৭৭ শতাংশই বেসরকারি খাতে যায়। একইভাবে শহরে ছড়িয়ে থাকা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোও মান নিয়ন্ত্রণহীন ও জবাবদিহিহীন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, দুর্নীতি ও অব্যবস্থা রোধ করা গেলে বিদ্যমান বাজেট দিয়েই স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন সম্ভব। তাই স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024