শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ সীমা বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : রবিবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ৭৫ পড়া হয়েছে
বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ সীমা বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ

বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ সীমা বেঁধে দিয়েছে আইএমএফ

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের ওপর বৈদেশিক ঋণ গ্রহণে সীমারেখা বেঁধে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির নতুন শর্ত অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ ৮৪৪ কোটি ডলার পর্যন্ত বৈদেশিক ঋণ নিতে পারবে।

আইএমএফ জুন মাসে বাংলাদেশের জন্য অনুমোদিত ঋণের চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তির মোট ১৩৪ কোটি ডলার ছাড়ের পর ‘বাংলাদেশ কান্ট্রি রিপোর্ট’ প্রকাশ করে। সেখানেই পরবর্তী কিস্তি পেতে নতুন এই শর্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

শর্ত অনুযায়ী, ঋণ গ্রহণ ত্রৈমাসিকভিত্তিক নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে। প্রথম তিন মাসে সর্বোচ্চ ১৯১ কোটি, ছয় মাস শেষে ৩৩৪ কোটি, নয় মাসে ৪৩৪ কোটি এবং পুরো অর্থবছরে সর্বোচ্চ ৮৪৪ কোটি ডলার পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার অনুমোদন থাকবে। প্রতি তিন মাস অন্তর বাংলাদেশের ঋণ পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করবে আইএমএফ।

আইএমএফ ২০২৩ সালে যখন ৪.৭ বিলিয়ন ডলার ঋণ অনুমোদন করে, তখন এমন কোনো সীমা ছিল না। তবে চলতি বছরের জুনে চতুর্থ ও পঞ্চম কিস্তি অনুমোদনের সময় মূল ঋণের পরিমাণ ৮০০ মিলিয়ন ডলার বাড়ানো হয় এবং মেয়াদ ছয় মাস বৃদ্ধি করা হয়। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ এ প্রোগ্রাম থেকে প্রায় ৩.৬ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, আইএমএফের সর্বশেষ ঋণ স্থায়িত্ব বিশ্লেষণ (ডিএসএ) অনুসারেই এ সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে টানা দুই অর্থবছরের জন্য ‘মধ্যম ঝুঁকি’র দেশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। আগে ‘কম ঝুঁকি’ হিসেবে বিবেচিত হলেও রপ্তানি ও রাজস্ব আয়ের তুলনায় ঋণ পরিশোধের চাপ বেড়ে যাওয়ায় ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে।

ডিএসএ অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ঋণ-রপ্তানি অনুপাত দাঁড়ায় ১৬২.৭ শতাংশে, যা অনুমানিত ১১৬-১১৮ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। একইভাবে বিদেশি ঋণ-রাজস্ব অনুপাতও বেড়েছে। ফলে নতুন করে ঋণ গ্রহণের সক্ষমতা সীমিত হয়ে পড়েছে।

অতীতের চিত্র বলছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মেগা প্রকল্প ও করোনাজনিত খরচের কারণে বিদেশি ঋণ ব্যাপকভাবে বেড়েছিল। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের বৈদেশিক ঋণ তিনগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় দ্রুততম ঋণ বৃদ্ধির রেকর্ড।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯-১০ অর্থবছরে বৈদেশিক ঋণ ছিল মাত্র ২০৩ কোটি ডলার। কিন্তু ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮০২ কোটি ডলারে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, বর্তমান সময়ে ঋণ নেওয়ার প্রবণতা কিছুটা কমেছে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024