বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৬ অর্থবছরে কিছুটা বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, দেশের জিডিপি ২০২৬ সালে প্রায় ৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। তবে এডিবি সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রবৃদ্ধির পথে বিভিন্ন ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এডিবির ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (এডিও)’ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি খাত এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। তবু ধীরগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দেশীয় চাহিদা হ্রাস, বারবার বন্যা, শিল্প শ্রমিক বিরোধ এবং ক্রমবর্ধমান উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি উল্লেখ করা হয়েছে।
এডিবি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি অর্থবছরে ভোগ্যব্যয় বাড়বে, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স প্রবাহ এবং আসন্ন নির্বাচনের ব্যয়ের কারণে বৃদ্ধি পাবে। এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়ং বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি নির্ভর করবে ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়ন, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার ওপর।” তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও মার্কিন শুল্কের প্রভাব এখনও স্পষ্ট নয়, যা দীর্ঘমেয়াদী টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
প্রতিবেদনটি সতর্ক করে জানায়, ২০২৬ অর্থবছরের জন্য ঝুঁকি রয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অনিশ্চয়তা, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা এবং নীতি বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রবৃদ্ধির অগ্রগতিতে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এজন্য সঠিক সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এবং দ্রুত কাঠামোগত সংস্কার জরুরি।
এডিবি জানায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭ শতাংশ এবং গত অর্থবছরে তা বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এটির পেছনে মূল কারণ হিসেবে পাইকারি বাজারে সীমিত প্রতিযোগিতা, বাজার তথ্যের ঘাটতি, সরবরাহ শৃঙ্খলে বাধা এবং টাকার অবমূল্যায়ন উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি হবে ভোগ্যব্যয়, যা শক্তিশালী রেমিট্যান্স ও নির্বাচন-সংক্রান্ত ব্যয়ের কারণে বৃদ্ধি পাবে। তবে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, রাজস্বনীতি এবং বিনিয়োগকারীদের সতর্ক মনোভাব বিনিয়োগকে মন্থর করতে পারে। এছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রপ্তানির ওপর ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির কারণে রপ্তানি খাতের চাপ বাড়বে।
উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়ন সাধনে কাজ করছে। বর্তমানে এডিবির সদস্য সংখ্যা ৬৯টি দেশ।