শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নীতি ও চ্যালেঞ্জ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
  • ১৬৫ পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়

বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয়: ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন নীতি ও চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ বিদেশে বসবাসের তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করেন। শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষার জন্য দেশ ছেড়ে যায়, অন্যরা রাজনৈতিক আশ্রয় বা নাগরিকত্বের স্বপ্নে ইউরোপ বা আমেরিকা পাড়ি দেয়। তবে সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নতুন সিদ্ধান্ত এই স্বপ্নে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

ইউরোপীয় কমিশন ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত তালিকায় বাংলাদেশ, কসোভো, কম্বোডিয়া, মিশর, ভারত, মরক্কো ও তিউনিশিয়াকে ‘নিরাপদ’ দেশ হিসেবে ঘোষণা করেছে। ইতালি আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, তারা আর বাংলাদেশের নাগরিকদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে রাজি নয়, কারণ বাংলাদেশ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিরাপদ।

এ সিদ্ধান্তের কারণে যারা ইতিমধ্যেই ইউরোপে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের আবেদন প্রক্রিয়া কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের মুখে পড়বে। পূর্বে এই ধরনের মামলা নিষ্পত্তি হতে দশ-বারো বছর লাগত, কিন্তু নতুন নীতিতে তা কয়েক মাসের মধ্যে সমাধান হবে।

রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, প্রত্যেক আবেদনকে ব্যক্তিগত পরিস্থিতি অনুযায়ী বিচার করা উচিত, কোনো দেশকে ‘নিরাপদ’ ঘোষণা করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদন বাতিল করা ঠিক নয়।

একজন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হিসেবে আমার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের অনেক আবেদনকারী জাল দলিল ব্যবহার করে আশ্রয় চেয়েছেন। এ অবস্থায় নতুন নীতি বাস্তবতাকে সামনে রেখে আবেদন প্রক্রিয়া দ্রুত করবে, তবে যারা ইতিমধ্যেই ব্যবসা বা লগ্নির মাধ্যমে বিদেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, তাদের প্রভাব সীমিত হবে।

এই নতুন বাস্তবতায়, যারা দেশের সম্পদ বহির্বিশ্বে নিয়েছেন, তারা নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পুনর্বিন্যাস করবে। অপরদিকে, দালালদের মাধ্যমে ঝুঁকি নিয়ে বিদেশে যাওয়া অসংখ্য তরুণ এবার সতর্ক হবে।

সর্বশেষে বলা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘নিরাপদ দেশের’ তালিকায় বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি অনেক নাগরিককে রাজনৈতিক আশ্রয় থেকে দূরে সরিয়ে নতুন বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয় করিয়েছে। এতে দেশের সত্যিকারের সহিংসতার শিকারদের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ বাড়বে, এবং অনৈতিক পথের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়া লোকজন নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বাধ্য হবে।

লেখক: রাজনৈতিক বিশ্লেষক, কবি ও কথাসাহিত্যিক

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024