মরক্কোতে কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলছে। গত শনিবার থেকে অন্তত ১১টি শহরে হাজার হাজার তরুণ-তরুণী রাস্তায় নেমে এসেছে। আন্দোলনের ডাক দিয়েছে অজ্ঞাতপরিচয় যুব সংগঠন ‘জেন-জি ২১২’।
রাবাতসহ বিভিন্ন শহরে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। শনিবার থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভে জনসমাবেশ ঠেকাতে পুলিশ টানা অভিযান চালাচ্ছে। শুধু রাবাতেই ৬০ জনকে আটক করা হয়েছে। কাসাব্লাঙ্কা, আগাদির, ওজদা ও মেকনেস থেকেও গ্রেফতারের খবর পাওয়া গেছে।
সরকার আলোচনার মাধ্যমে দাবি পূরণের আশ্বাস দেয়ার চেষ্টা করছে। বিক্ষোভকারীরা স্লোগান দিচ্ছেন, “জনগণের চাই স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জবাবদিহিতা”। এই ক্ষোভের পেছনে একটি সরকারি হাসপাতালে আটজন গর্ভবতী নারীর মৃত্যুর খবরও রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের বেশিরভাগই জেনারেশন জেড, যারা মরক্কোর সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। তাদের দাবি, সরকারের অগ্রাধিকার ভুল এবং জনসেবার মান খারাপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়, যা পরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার রাতে কাসাব্লাঙ্কায় প্রধান মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। সামাজিক মাধ্যমের ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের কাছে ছাত্রী-ছাত্রীদের ছত্রভঙ্গ করছে।
মরক্কো মানবাধিকার সমিতির রাবাত শাখার সভাপতি হাকিম সিকুক জানান, আটক বেশিরভাগ বিক্ষোভকারীকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, তবে অনেককে নির্যাতন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সরকার তরুণদের দাবি শোনার জন্য সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছে।
এই বিক্ষোভ ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বা ইউনিয়নের নেতৃত্বে নয়। এটি মূলত নেতৃত্বহীন, সামাজিক মাধ্যমে—টিকটক, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও ডিসকর্ড—এর মাধ্যমে সংগঠিত। ‘জেন জি ২১২’ এবং ‘মরোক্কা ইয়ুথ ভয়েস’ নামের কয়েকটি গ্রুপ মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে গড়ে উঠেছে। আন্দোলন শান্তিপূর্ণ হলেও অনেকে তীব্র দাবিও তুলছেন।
মরোক্কান ইনস্টিটিউট ফর পলিসি অ্যানালাইসিসের বিশ্লেষক মোহাম্মদ মাসবাহ বলেন, আন্দোলন ‘বিকেন্দ্রীভূত, নেতা-বিহীন ও পরিবর্তনশীল’, ফলে এটি টিকে থাকার ক্ষমতা বেশি, তবে সমাধান কঠিন। অনেকে একে ২০১১ সালের আরব বসন্তের সঙ্গে তুলনা করছেন।
জেন জি ২১২ ফেসবুকে লিখেছে:
“অধিকার পাওয়ার একমাত্র পথ প্রতিবাদ।” তারা নতুন সমাবেশের ডাক দিয়েছে। দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও বড় হতে পারে, যা সরকারের ওপর চাপ তৈরি করবে।
এক বিক্ষোভকারীর ভাষায়, “স্বাস্থ্য ও শিক্ষা চাওয়া মানে আসলে জীবন চাওয়া।”