এখন থেকে দেশে সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি (ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সরকারের অভ্যন্তরীণ ক্রয়ে পূর্বে বিদ্যমান ১০ শতাংশ (প্লাস-মাইসান) মূল্যসীমা বাতিল করা হয়েছে। এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে সরকারি ক্রয়ে সুশাসন, স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নতুন প্রণীত পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর), ২০২৫ কার্যকর করার মাধ্যমে।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ কার্যকর হওয়ার পর ধারাবাহিকভাবে এই বিধিমালা প্রণীত হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী এখন থেকে দেশে সরকারি ক্রয় পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশোধিত পিপিএ, ২০০৬ এবং পিপিআর, ২০২৫ যুগপৎভাবে প্রযোজ্য।
পিপিআর, ২০২৫-এ মোট ১৫৪টি বিধি এবং ২১টি তফশিল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রধান পরিবর্তনগুলো হলো:
সব ধরনের সরকারি ক্রয়ে ই-জিপি বাধ্যতামূলক করা।
চুক্তি প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রকৃত উপকারভোগী প্রকাশ বাধ্যতামূলক।
টেকসই সরকারি ক্রয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবর্তন।
প্রতিটি প্রকিউরমেন্টে কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়নের বাধ্যবাধকতা।
ভৌতসেবা (physical service) স্বতন্ত্র প্রকিউরমেন্ট ক্যাটাগরি হিসেবে স্বীকৃতি।
ফ্রেমওয়ার্ক অ্যাগ্রিমেন্ট ও নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ।
একটি ডিবারমেন্ট বোর্ড প্রতিষ্ঠা।
সম্পদ নিষ্পত্তি সংক্রান্ত সুস্পষ্ট বিধান।
পিপিআর, ২০২৫ প্রণয়নের উদ্যোগ শুরু হয় ২০২৫ সালের ৪ মে, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশের পরপরই। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটি (বিপিপিএ) নতুন বিধিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে ২০০৮ সালের পূর্ববর্তী পিপিআর প্রতিস্থাপন করেছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব মো. কামাল উদ্দিন বলেন, “এটি সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় প্রতিযোগিতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।”
বিপিপিএ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ও সরকারের সচিব এস এম মঈন উদ্দীন আহম্মেদ বলেন, “নতুন বিধিমালা দেশের সরকারি ক্রয় সংস্কারের ইতিহাসে এক মাইলফলক।”