যুক্তরাজ্যের ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও) সম্প্রতি এক সতর্কতা জারি করে জানিয়েছে, বাংলাদেশে যেকোনো সময় সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে। জনসমাগমস্থল, রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ, ধর্মীয় স্থাপনা এবং বিদেশিদের চলাচলের স্থানগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
এক সরকারি বার্তায় ব্রিটিশ নাগরিক এবং ইউকের স্বার্থের সঙ্গে জড়িত স্থানগুলোতে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের এ সতর্কতার পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসের অভ্যুত্থান ও পরবর্তী বাংলাদেশ জুড়ে সংঘটিত সহিংসতার ধারাবাহিকতা। রাজনৈতিক বিক্ষোভ, ধর্মঘট, অগ্নিসংযোগ এবং ভাঙচুরের মতো ঘটনাগুলো যে কোনো সময় বড় সহিংসতায় রূপ নিতে পারে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, ওই সময়ের সহিংসতায় সংখ্যালঘু ধর্মীয় সম্প্রদায়, পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা বাহিনী লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। হামলাগুলোতে কখনো কখনো বিশেষ ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সহিংসতার কারণে বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে। অনেক পুলিশ স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যদিও বেশিরভাগ পুনরায় চালু হয়েছে।
ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, পুলিশ স্টেশন বা নিরাপত্তা বাহিনীর কার্যালয়গুলোর আশপাশে চলাচলে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
রাজধানী ঢাকা এবং অন্যান্য বড় শহরগুলোতে ছিনতাই, ডাকাতি, ধর্ষণ এবং সহিংস অপরাধের ঘটনাগুলোর ঝুঁকি রয়েছে। বিশেষত মোটরসাইকেল এবং সিএনজিতে চলাচলকারী সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারীদের সম্পর্কে সাবধান থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রমাণ ছাড়া এমন সতর্কতা বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ এবং দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সন্ত্রাসী হামলার সংখ্যা কমাতে বাংলাদেশ সরকার নিরলস প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশকে বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে। সম্ভাব্য সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে এমন পরিস্থিতি দেশের ভাবমূর্তিতে ক্ষতিকর প্রভাব না ফেলে।
সূত্র: https://www.youtube.com/watch?v=qOKiO7fe1gA