শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বকেয়া ১৫৪ কোটি, রিং শাইনের ৫ প্লটের লিজ বাতিল করলো বেপজা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫
  • ১০২ পড়া হয়েছে

দীর্ঘদিন ধরে পাওনা পরিশোধ না করার কারণে পুঁজিবাজারের তালিকাভুক্ত রিং শাইন টেক্সটাইলস লিমিটেডকে বরাদ্দকৃত পাঁচটি প্লটের জমির ইজারা চুক্তি (লিজ) বাতিল করেছে বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা)। এছাড়াও, কোম্পানিকে ৭ দিনের মধ্যে এই প্লটগুলি খালি করতে বলা হয়েছে অন্যথায় তা দখলে নেবে বেপজা।

বৃহস্পতিবার কোম্পানিটিকে এই সংক্রান্ত একটি চিঠি দিয়েছে বেপজা। চিঠির পর, রবিবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির শেয়ারের দাম ৪ দশমিক ৬৫ শতাংশ কমে ৪ টাকা ১০ পয়সায় নেমে আসে। অপরদিকে আজ কর্মদিবস শেষে কোম্পানিটির শেয়ার দর ৪ টাকা ৩০ পয়সা বা গতদিনের চেয়ে ২০ পয়সা বেড়েছে।

জানা গেছে, ৩১ জানুয়ারী ২০২৫ পর্যন্ত, রিং শাইনের কাছে ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার পাওনা রয়েছে বেপজার। আজকের মার্কিন ডলারদর অনুযায়ী যা বাংলাদেশী টাকায় প্রায় ১৫৪ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

কোম্পানিটি ইতিমধ্যে জানিয়েছে যে তারা বকেয়া পরিশোধ করতে অক্ষম কারণ একাধিক আবেদন সত্ত্বেও পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা এখনও তাদের অবশিষ্ট প্রাথমিক গণপ্রস্তাব তহবিল প্রকাশ করেনি। বর্তমানে, বেপজার সাথে জমি লিজ চুক্তির অধীনে কোম্পানিটির ৫০টি প্লট রয়েছে।

বেপজার মতে, রিং শাইন দীর্ঘ সময় ধরে তার পাওনা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বারবার অর্থ প্রদানের অনুরোধ করেছে এবং বকেয়া অর্থ পরিশোধের জন্য একাধিক সুযোগ দিয়েছে।

বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দেওয়া এবং বিভিন্ন পেমেন্ট পরিকল্পনা জমা দেওয়া সত্ত্বেও, কোম্পানিটি ধারাবাহিকভাবে তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয় এবং বেশ কয়েক মাস ধরে তার নিয়মিত পাওনা পরিশোধ করেনি।

বেপজা মনে করছে কোম্পানিটি ঢাকা ইপিজেড (DEPZ)-এ কাজ করতে অক্ষম এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অর্থ প্রদান বিলম্বিত করছে।

ফলস্বরূপ, বেপজা ১৫ অক্টোবর ২০২৪ তারিখে ২১ দিনের নোটিশ জারি করে, কিন্তু কোম্পানিটি তা পাওয়ার পর কোনও অর্থ প্রদান করেনি। এর পর, ১৮ ​​নভেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়, যাতে কোম্পানিকে ব্যাখ্যা করতে বলা হয় যে ডিইপিজেড এক্সটেনশন এরিয়ায় প্লটের জন্য তাদের ইজারা চুক্তি কেন পরিশোধ না করার কারণে বাতিল করা হবে না।

জবাবে, কোম্পানিটি ৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে একটি চিঠিতে এই প্লটগুলির ব্যবহার সম্পর্কে একটি ব্যাখ্যা জমা দেয়। তবে, বেপজা কোম্পানির ব্যাখ্যা এবং ডিইপিজেড জোন অফিসের প্রতিবেদনের মধ্যে অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে।

কিন্তু ৩১ জানুয়ারী ২০২৫ তারিখে, কোম্পানিটি মাত্র ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬৪৭ ডলার পরিশোধ করে, যেখানে তাদের মোট বকেয়া পাওনা ছিল ১ কোটি ২৭ লাখ ৯৭ হাজার ৪৪২ ডলার, যার বিপরীতে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৪৫ ডলার নিরাপত্তা আমানত রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কথা বলতে রিং শাইনের কোম্পানি সচিবের সাথে মুঠফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোন সারা পাওয়া যায়নি।

এদিকে লিজ বাতিল প্রসঙ্গে রিং শাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনিরুদ্ধ পিয়াল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, কোম্পানিটি সম্পূর্ণরূপে কার্যক্রম পুনরায় শুরু করার জন্য কাজ করছে। তারা ইতিমধ্যে উৎপাদন ক্ষমতা ১০ শতাংশ এর নিচে থেকে ৫০ শতাংশ এ উন্নীত করেছে। কোম্পানিটি তাদের আইপিও তহবিল মুক্তির জন্য বিএসইসির কাছে আবেদন করেছে, যেখানে ১ মিলিয়ন ডলারের অনুরোধ করা হয়েছে, যা তারা বেপজার পাওনা পরিশোধের জন্য ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। তবে, এখনও পর্যন্ত কোনও তহবিল পায়নি।

তিনি বলেন, বেপজা ইতিমধ্যেই কোম্পানির আমদানি ও রপ্তানি অনুমতি স্থগিত করেছে। অবশেষে, কর্তৃপক্ষ কোম্পানির পাঁচটি প্লটের জমির ইজারা চুক্তি বাতিল করেছে। আইপিও তহবিল ছাড়া বেপজাকে অর্থ প্রদান করা সম্ভব হবে না।

জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে, রিং শাইন টেক্সটাইলস ৬৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের ২৭ কোটি টাকা থেকে বেশি। এই প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৩৯ দশমিক ৬৪ কোটি টাকা লোকসানের কথা জানিয়েছে, যা এক বছর আগের বছর ৪৩ কোটি টাকা লোকসানের তুলনায় বেশি। এর শেয়ার প্রতি লোকসান ০ দশমিক ৭৯ টাকা, যেখানে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এর শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য ছিল ঋণাত্মক ৮ দশমিক ৮২ টাকা।

২০২৩ সালের আগস্টে, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) শর্তসাপেক্ষে ওয়াইজ স্টার টেক্সটাইল মিলস এবং সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক পাঁচটি কোম্পানিকে রিং শাইনের শেয়ার অধিগ্রহণের অনুমতি দেয়, যার মধ্যে স্পনসর-পরিচালকদের হাতে থাকা শেয়ারও রয়েছে।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে, রিং শাইনের পরিচালনা পর্ষদ এই ছয়টি কোম্পানির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে, যারা সম্মিলিতভাবে ফার্মের ৩৮ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল। এর মধ্যে, ওয়াইজ স্টারের কাছে মাত্র ২% শেয়ার থাকবে, অন্য পাঁচটি কোম্পানির কাছে ৩৬ শতাংশ শেয়ার থাকবে।

২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে, হাইকোর্ট বিএসইসি কর্তৃক পুনর্গঠিত রিং শাইন টেক্সটাইলসের বোর্ডের কার্যক্রম ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024