শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ক্রেডিট কার্ডের মরনফাঁদ, গ্রাহকদের জন্য এক অভিশাপ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৭ মার্চ, ২০২৫
  • ১০৯ পড়া হয়েছে

আজকের আধুনিক বিশ্বে ক্রেডিট কার্ডকে প্লাস্টিক মানি হিসেবে পরিচিত। এটি একটি আর্থিক ডিভাইস, যার মাধ্যমে গ্রাহক নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ব্যবহার বা খরচ করতে পারেন এবং পরবর্তীতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ওই টাকা পরিশোধ করতে হয়।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এর সঠিক ব্যবহার না করলে এটি ঋণের ফাঁদে পরিণত হতে পারে। তাই ক্রেডিট কার্ড নেওয়ার আগে এবং ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে সতর্কতা:

*বিল পরিশোধের সময়সীমা:
প্রত্যেক ক্রেডিট কার্ডের জন্য একটি নির্দিষ্ট বিল পরিশোধের সময়সীমা থাকে। এই সময়সীমা পার হলে লেট পেমেন্ট চার্জ এবং সুদের বোঝা বৃদ্ধি পায়। বেশির ভাগ ব্যাংকেই সুদের হার অতিরিক্ত থাকে। তাই, বিল পরিশোধ করার জন্য সময়মতো টাকা পরিশোধ করতে হবে।

*ন্যূনতম বিল পরিশোধ:
যদি কোনো মাসে পুরো বিল পরিশোধের জন্য অর্থ না থাকে, তাহলে অন্তত ন্যূনতম বিল পরিশোধ করা উচিত। এটি সময়মতো ঋণের বোঝা কমাতে সাহায্য করে।

*ক্রেডিট লিমিট:
প্রতিটি ক্রেডিট কার্ডের একটি নির্দিষ্ট সীমা (লিমিট) থাকে, যা গ্রাহক ব্যবহার করতে পারেন। তবে, এই সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে নিজের আয়, ব্যয় এবং খরচের হিসাব রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। প্রয়োজন হলে, আয় বাড়ালে এই সীমা বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

*অটো ডেবিট সুবিধা:
ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য অটো ডেবিট সুবিধা থাকা অত্যন্ত সুবিধাজনক। এর মাধ্যমে, যদি কোনো কারণে নির্দিষ্ট দিনে বিল পরিশোধ করতে না পারেন, তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিল পরিশোধ হয়ে যাবে। এতে লেট পেমেন্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং অতিরিক্ত সুদ থেকে বাঁচা যায়।

*নগদ টাকা তোলা থেকে বিরত থাকুন:
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে নগদ টাকা উত্তোলন করা হলে, সেখান থেকে সুদ চালু হয়ে যায় এবং এটি অনেক বেশি হয়ে থাকে। তাই, ক্রেডিট কার্ড কেবল কেনাকাটার জন্যই ব্যবহার করা উচিত, নগদ টাকা উত্তোলনের জন্য নয়।

*খরচের হিসাব রাখুন:
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করার সময়, কী পরিমাণ অর্থ খরচ করছেন, তা সঠিকভাবে হিসাব রাখা জরুরি। যে পরিমাণ খরচ করছেন, তা পরিশোধের ক্ষমতা রয়েছে কি না, সে বিষয়টি মাথায় রাখুন। বেশিরভাগ ব্যাংক ইএমআই সুবিধা দেয়, সেক্ষেত্রে সেই সুবিধা গ্রহণ করলে বিল পরিশোধের চাপ কমানো সম্ভব।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুবিধা:

*দ্রুত লেনদেন:
ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে টাকা ধার না করে দ্রুত কেনাকাটা করা সম্ভব, যা খুবই সুবিধাজনক।

*পুরস্কার পয়েন্ট:
বিশেষত বিমান ভ্রমণের ক্ষেত্রে ক্রেডিট কার্ডে লেনদেনের মাধ্যমে পুরস্কার পয়েন্ট পাওয়া যায়, যা একটি আকর্ষণীয় সুবিধা।

*নগদ বহনের ঝুঁকি থেকে মুক্তি:
ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করলে নগদ অর্থ বহনের ঝুঁকি কমে যায়, যা এক ধরনের নিরাপত্তা প্রদান করে।

*অধিকতর নিরাপত্তা:
ক্রেডিট কার্ড সাধারণত ডেবিট কার্ডের তুলনায় অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকে, যা গ্রাহকদের জন্য একটি অতিরিক্ত সুবিধা।

ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করা মোটেও খারাপ নয়, তবে এর সঠিক ব্যবহার এবং সাবধানতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।

নিয়মিত বিল পরিশোধ এবং সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহারের মাধ্যমে এটি আপনার আর্থিক জীবনে উপকারিত হতে পারে, কিন্তু অযত্নে ঋণের বোঝা বাড়ানো থেকেও বিরত থাকতে হবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024