চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB)। বুধবার প্রকাশিত ‘এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক (ADO) ২০২৫’ প্রতিবেদনে এই পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কম হবে। যেখানে অঞ্চলটির গড় প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৬ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে নেমে আসবে।

অর্থনৈতিক পূর্বাভাস ২০২৫
চলতি অর্থবছরের শুরুতে এডিবি বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিল। তবে জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে অর্থনীতির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায়, নতুন পূর্বাভাসে তা কমিয়ে ৩.৯ শতাংশ করা হয়েছে।
তবে আশা করা হচ্ছে, আগামী অর্থবছর অর্থাৎ ২০২৫-২৬ সালে দেশের অর্থনীতি কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে পারে এবং প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশে উন্নীত হতে পারে।
ADB জানিয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক ধীরগতির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, শ্রমিক অসন্তোষ এবং দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতি। এ সবই অর্থনৈতিক পরিবেশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষ করে ভোক্তা পর্যায়ে চাহিদা কমে যাওয়া, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং উৎপাদন খাতে চাপ তৈরি হওয়ার কারণেই সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থিতিশীল উৎপাদন খাতেই ভরসা
যদিও সামগ্রিক অর্থনীতি ধীরগতিতে চলেছে, তবে এডিবির মতে, বাংলাদেশের উৎপাদন খাত কিছুটা স্থিতিশীল রয়ে গেছে। বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও রপ্তানি খাত আন্তর্জাতিক বাজারে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে।
ADB আশা প্রকাশ করেছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা এবং কাঠামোগত সংস্কার জোরদার করা গেলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৭ শতাংশ, ভুটানে ৬.৫ শতাংশ এবং নেপালে ৫.৫ শতাংশ। এই তুলনায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় পিছিয়ে থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এখনই কার্যকরী ও সময়োপযোগী অর্থনৈতিক সংস্কার দরকার। ব্যাংকিং খাতকে স্বচ্ছ ও দক্ষ করে গড়ে তোলা, বৈদেশিক বিনিয়োগে আস্থা ফেরানো এবং রপ্তানির নতুন বাজার খোঁজার উদ্যোগ নিতে হবে।
ADB-ও সুপারিশ করেছে যে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, নীতিনির্ধারণে ধারাবাহিকতা রাখা এবং বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করাই হবে প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর মূল চাবিকাঠি।