আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় ১০ নেতার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির আবেদন করা হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোড়ন তুলেছে। এই তালিকায় রয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং আরও আটজন প্রভাবশালী নেতা।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (ICC) প্রসিকিউশন টিমের পক্ষ থেকে এই আবেদনটি করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, আবেদনটি পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)-এর মাধ্যমে ইন্টারপোলের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এই আবেদনে যাদের নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, তারা হলেন:
ওবায়দুল কাদের
আসাদুজ্জামান খান কামাল
একে এম মোজাম্মেল হক
হাছান মাহমুদ
জাহাঙ্গীর কবির নানক
ফজলে নূর তাপস
মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল
নসরুল হামিদ বিপু
আলী আরাফাত
তারেক আহমেদ সিদ্দিকী

আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় ১০ নেতা
এই রেড নোটিশের আবেদন এমন সময় সামনে এল, যখন দেশ রাজনৈতিকভাবে এক অস্থির সময় পার করছে।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ব্যাপক অভ্যুত্থানের মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নেন। তাঁর পদত্যাগের মাত্র তিন দিনের মধ্যেই, অর্থাৎ ৮ আগস্ট, গঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয়।
বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, এই মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার লঙ্ঘন, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ অপব্যবহারের অভিযোগ। ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতাকে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান ও আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে ফিরিয়ে আনার জন্যই ইন্টারপোলের সহায়তায় রেড নোটিশ জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, রেড নোটিশ একটি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নোটিশ, যার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে খুঁজে বের করে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী তাকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। তবে এটি কোনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়—বরং একজন পলাতক অপরাধীর অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ ও আইনগত সহযোগিতার একটি অনুরোধমাত্র।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই উদ্যোগ দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক মানচিত্রকে অনেকটাই প্রভাবিত করতে পারে। প্রাক্তন সরকার দলীয় নেতাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিচারের মুখোমুখি করার প্রচেষ্টা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে—এমনটাই মনে করছেন অনেকে।
তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। দলীয় নেতারা এই বিষয়ে নীরবতা পালন করছেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনের বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক যুগের সূচনা করেছে, যেখানে জবাবদিহিতা এবং আইনের শাসনের প্রশ্ন আরও জোরালো হয়ে উঠছে।