বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব সামনে এনেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির পক্ষ থেকে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ নামটির পরিবর্তে ‘পিপলস ওয়েলফেয়ার স্টেট অব বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ জনকল্যাণ রাষ্ট্র’ নামকরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এই প্রস্তাবনা আনুষ্ঠানিকভাবে পেশ করা হয় বৃহস্পতিবার (১০ এপ্রিল) দুপুর ১২টায়। দলের মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমেদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে গিয়ে লিখিত মতামত জমা দেয়। প্রস্তাবটি গ্রহণ করেন কমিশনের সহ-সভাপতি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
লিখিত প্রস্তাবে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাষ্ট্রের নাম এমন হওয়া উচিত যাতে জনগণের মৌলিক অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করার মূলনীতি প্রতিফলিত হয়। তাই ‘পিপলস ওয়েলফেয়ার স্টেট অব বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ জনকল্যাণ রাষ্ট্র’ নামটি তাদের কাছে অধিকতর অর্থবহ এবং সময়োপযোগী বলে মনে হয়।
প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম এবং সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম।
দলের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশ একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র। তাই রাষ্ট্রের নাম ও কাঠামো এমন হওয়া উচিত যেখানে ইসলামী মূল্যবোধের সঙ্গে মিল রেখে জনকল্যাণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। ‘গণপ্রজাতন্ত্রী’ শব্দটি পশ্চিমা রাজনৈতিক ধারণা থেকে আগত এবং এতে জনগণের মৌলিক চাহিদার প্রতিফলন যথাযথভাবে হয় না বলে দাবি করে দলটি।
তারা আরও উল্লেখ করে, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে একটি ‘জনকল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ জনগণের চাহিদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে পারে। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে তারা একটি আদর্শ কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, যেখানে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার, সামাজিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য থাকবে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, ও পেশাজীবী সংগঠনের কাছ থেকে প্রস্তাবনা নেওয়া হচ্ছে এবং এসব প্রস্তাব পর্যালোচনা করে একটি সামগ্রিক জাতীয় রূপরেখা তৈরির চেষ্টা চলছে।
প্রস্তাবটি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ এটিকে রাজনৈতিক স্টান্ট হিসেবে দেখলেও, অনেকে এটিকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় মত প্রকাশের একটি ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তন শুধু প্রতীকী নয়, এটি একটি বড় সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। এজন্য প্রয়োজন সাংবিধানিক সংশোধনী, সংসদীয় অনুমোদন এবং সম্ভব হলে গণভোট।
তবে ইসলামী আন্দোলনের এই প্রস্তাব যে একটি আলোচনা তৈরি করেছে, তাতে সন্দেহ নেই। এটি ভবিষ্যতে রাষ্ট্রব্যবস্থার গঠন ও সংজ্ঞায় নতুন বিতর্ক ও চিন্তাধারার জন্ম দিতে পারে।