সোনার দামে আবারও রেকর্ড। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ২২ ক্যারেট সোনার দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৭ টাকায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বৃহস্পতিবার রাতে এই নতুন মূল্যহার ঘোষণা করেছে, যা ৯ এপ্রিল থেকে কার্যকর হয়েছে।
এই দাম বৃদ্ধির ফলে ভরিপ্রতি সোনার মূল্য বেড়েছে ২ হাজার ৪০৩ টাকা। মাত্র কয়েকদিন আগেই চার দফা মূল্যবৃদ্ধির পর একবার সোনার দাম কমানো হয়েছিল। কিন্তু বিশ্ববাজারে সোনার দর ঊর্ধ্বমুখী হওয়ায় আবারও দেশের বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
নতুন দামের ফলে দেশের মধ্যবিত্ত ও স্বর্ণনির্ভর খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এতে ক্রয়ক্ষমতা আরও সঙ্কুচিত হবে। আবার অনেকে বলছেন, এটি স্বর্ণের বিনিয়োগমূল্য বাড়িয়ে তুলবে, যা দীর্ঘমেয়াদে লাভজনক হতে পারে।
বাজুসের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার আগরওয়ালা গণমাধ্যমকে জানান, “আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম বেড়েই চলেছে। আমরা আন্তর্জাতিক ট্রেন্ড অনুসরণ করে দাম নির্ধারণ করি। দেশের বাজারেও সে অনুযায়ী সমন্বয় আনতে হয়।”
এর আগে দেশের বাজারে ভালো মানের ২২ ক্যারেট এক ভরি সোনার দাম ছিল ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬২৪ টাকা। সেখান থেকে এক লাফে প্রায় আড়াই হাজার টাকা বেড়ে নতুন রেকর্ডে পৌঁছায় দাম।
সোনার পাশাপাশি রূপার দামেও সামান্য পরিবর্তন এসেছে বলে জানিয়েছে বাজুস। তবে স্বর্ণালঙ্কার ও বার ক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতারা যেন সতর্ক থাকেন, সেজন্য লাইসেন্সধারী দোকান থেকে কেনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতির চাপ, মার্কিন ডলার দুর্বল হওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা—এই সব কিছু মিলে বিশ্ববাজারে সোনার দাম ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। ফলে বাংলাদেশেও এর প্রভাব সরাসরি পড়ছে।
অন্যদিকে, বিয়ের মৌসুম সামনে রেখে অনেকেই এখন সোনা কিনতে আগ্রহী হলেও উচ্চমূল্যের কারণে অনেক পরিবার পিছিয়ে যাচ্ছে। যাঁরা বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে সোনা কিনে থাকেন, তাঁদের মধ্যে দ্বিধা তৈরি হয়েছে—এখন কিনবেন, না আরও কিছুদিন অপেক্ষা করবেন।
বাজুসের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, মূল্যবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আবারও দাম সমন্বয় করা হতে পারে। এ নিয়ে শিগগিরই একটি বৈঠক ডাকার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোনার এই মূল্যবৃদ্ধি শুধু মধ্যবিত্ত নয়, খুচরা ব্যবসায়ী ও কারিগর শ্রেণির ওপরও চাপ তৈরি করছে। কেননা উচ্চ দামের কারণে বিক্রি কমে যাওয়ায় তাদের লাভের পরিমাণও হ্রাস পাচ্ছে।
তবে অনেকে এটিকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবেই দেখছেন। কারণ বিশ্ববাজারে সোনার দাম বাড়লে, সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও তার প্রতিফলন ঘটবেই। এখন দেখার বিষয়, সামনের সপ্তাহগুলোতে এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে কিনা।