জাতীয় নাগরিক কমিটির শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা কমিটির সদস্য দিলশাদ আফরিনকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা।
২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল জাতীয় নাগরিক কমিটির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে দিলশাদ আফরিনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় ১০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে।

দিলশাদ আফরিন
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দিলশাদ আফরিনের সাম্প্রতিক কিছু কার্যক্রম সংগঠনের নীতিমালা ও শৃঙ্খলার পরিপন্থী ছিল। ফলে অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে। তদন্ত শেষে দেখা যায়, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বেশিরভাগই সত্য প্রমাণিত হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সংগঠনের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এবং সদস্যদের মধ্যে একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি হয়ে পড়ে। সেই প্রেক্ষিতেই জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক (ভারপ্রাপ্ত) নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং সদস্যসচিব (ভারপ্রাপ্ত) আখতার হোসেনের যৌথ অনুমোদনে দিলশাদ আফরিনকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ৮ এপ্রিল থেকেই কার্যকর হয়েছে বলে চিঠিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় সাবেক যুগ্ম সদস্যসচিব ও বর্তমান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্যসচিব আল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, “দিলশাদ আফরিনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ছিল, যার মধ্যে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অন্যতম। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ ও অনুসন্ধানের পর এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”
আল আমিন আরও বলেন, “সংগঠনকে দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মুক্ত রাখার জন্য এমন সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী ও জরুরি। একজন সদস্য যদি সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এই বার্তাও বহন করছে এ সিদ্ধান্ত।”

দিলশাদ আফরিন
জাতীয় নাগরিক কমিটি মূলত একটি সামাজিক ও নাগরিক সচেতনতা ভিত্তিক সংগঠন, যা নীতি, শৃঙ্খলা এবং জনসেবার আদর্শে পরিচালিত হয়। এ ধরনের সংগঠনে সদস্যদের চারিত্রিক ও নৈতিক যোগ্যতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই বহিষ্কারকে অনেকেই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার একটি প্রয়াস হিসেবে দেখছেন।
সাধারণ সদস্যদের অনেকেই এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ লিখেছেন, “সংগঠনের আদর্শ রক্ষায় এমন পদক্ষেপ ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
তবে দিলশাদ আফরিনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তিনি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন কিনা, তা-ও স্পষ্ট নয়।
সংগঠনের নেতারা জানান, ভবিষ্যতে কেউ সংগঠনের শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করলে বা আর্থিক অনিয়মে যুক্ত থাকলে, দল তার বিরুদ্ধে অনুরূপ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।