বলিউডের জনপ্রিয় সুপারস্টার হৃত্বিক রোশন এবার শুধু রুপালি পর্দায় নয়, পেছন থেকেও দর্শকদের চমক দিতে আসছেন। বহু প্রতীক্ষিত সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘ক্রিশ’-এর চতুর্থ কিস্তি ‘ক্রিশ ৪’-এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো পরিচালকের আসনে বসছেন হৃত্বিক।
এতদিন ধরে তাকে আমরা দেখে এসেছি বলিউডের “গ্রিক গড” হিসেবে, যার স্টাইল, নাচ আর অ্যাকশন মুগ্ধ করেছে কোটি ভক্তকে। তবে এবার সেই নায়কই হচ্ছেন নির্মাতা। এই খবরেই বলিউডে চলছে আলোচনার ঝড়।
সিনেমাটির প্রি-প্রোডাকশন ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হলো, এই কিস্তিটি পরিচালনা করছেন হৃত্বিক নিজেই। এর মাধ্যমে ‘ক্রিশ’ সিরিজ কেবল তার পর্দায় প্রত্যাবর্তনের বাহন নয়, বরং ক্যামেরার পেছনে তার প্রথম বড় পরীক্ষা হিসেবেও বিবেচিত হবে।
পরিচালক হওয়ার অভিজ্ঞতা নিয়ে হৃত্বিক বলেন,
“আমি যেন আবার কিন্ডারগার্টেনে ফিরে গেছি। মনে হচ্ছে সবকিছু নতুনভাবে শিখতে হবে। এটি এক নতুন সংগ্রাম, নতুন চ্যালেঞ্জ। অনিশ্চয়তা আর অনুসন্ধানে ভরা এক যাত্রা।”
তিনি আরও জানান, এই যাত্রা তার কাছে যেমন উত্তেজনাকর, তেমনই নার্ভাস করার মতোও। প্রতিটি দৃশ্য, প্রতিটি টেক – সবকিছুতেই তিনি নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছেন।
নিজের এই সাহসী যাত্রায় হৃত্বিক জানালেন, তিনি সবচেয়ে বেশি ভরসা করছেন তার ভক্তদের ভালোবাসার ওপর।
“সন্দেহের মুহূর্ত আসবে, তবুও আমি জানি আমার ভক্তদের আশীর্বাদ আমার সঙ্গে আছে। আমি তাদের ভালোবাসা আর সমর্থনের উপর নির্ভর করছি। এই পথচলায় আমার সবার আশীর্বাদ প্রয়োজন।”
২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ক্রিশ’, ভারতের অন্যতম সফল সুপারহিরো ফ্র্যাঞ্চাইজিতে পরিণত হয়। এরপর ‘ক্রিশ ৩’ দিয়ে সিরিজটি এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর অবশেষে চতুর্থ কিস্তির ঘোষণা এবং হৃত্বিকের পরিচালনায় অভিষেক – এই দুটি বিষয়ই ভক্তদের মাঝে তৈরি করেছে প্রবল উত্তেজনা।
‘ক্রিশ ৪’-এ কী নতুন গল্প আসবে, কে থাকবেন সহ-অভিনেতা বা খলনায়কের ভূমিকায় – এসব নিয়ে এখনও রহস্য রয়ে গেছে। তবে বলিউডে কানাঘুষো রয়েছে, এবার কাহিনিতে আরও গভীরতা, উন্নত প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের ভিএফএক্সের ব্যবহার থাকবে।
হৃত্বিক রোশনের জন্য ‘ক্রিশ ৪’ কেবল আরেকটি সিনেমা নয়—এটি একটি পরিণতির প্রতীক। একজন অভিনেতা হিসেবে যিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন, এবার তিনি প্রমাণ করতে যাচ্ছেন একজন নির্মাতা হিসেবেও কতটা দক্ষ।
বলিউডে অনেক তারকা অভিনেতা পরিচালনায় এসেছেন, কিন্তু সুপারহিরো ঘরানার মতো টেকনিক্যালি চ্যালেঞ্জিং একটি প্রজেক্ট দিয়ে যাত্রা শুরু করা নিঃসন্দেহে সাহসিকতার পরিচয়।
ভক্তদের প্রত্যাশা যেমন আকাশছোঁয়া, তেমনই হৃত্বিকের দায়িত্বও অনেক বড়। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালনা সামলানো একটি দুরূহ কাজ। কিন্তু হৃত্বিকের মতো নিখুঁত পারফর্মার যদি একই নিষ্ঠা ও ধৈর্য নিয়ে নির্মাণেও মন দেন, তাহলে ভারতীয় সিনেমায় এটি হতে পারে এক যুগান্তকারী মুহূর্ত।