শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ব্রোকারেজ থেকে সিকিউরিটিজ লেনদেনের কর সংগ্রহের আহ্বান ডিবিএর

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৮৩ পড়া হয়েছে

স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য কোম্পানী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর উৎসে কর সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছেন ডিএসই ব্রোকারেজ এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) নেতারা।

শনিবার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবিএ নেতারা এসব কথা বলেন।

ডিবিএ নেতারা বলেন, স্টক এক্সচেঞ্জের সদস্য কোম্পানী ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলো কর্তৃক প্রদত্ত সিকিউরিটিজ লেনদেনের মূল্য পরিশোধকালে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোট লেনদেনের উপর থেকে ০.০৫ শতাংশ হারে উৎসে কর সংগ্রহ করে থাকে (Tax on Securities Transaction) যা মোট আয় বা গ্রস প্রাপ্তির প্রায় ২৫ শতাংশ । অর্থ আইন, ২০০৫ এ- এই কর হার ০.০১৫ শতাংশ ছিল। এই করের হার আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বেশী।

ডিবিএ জানায়, পার্শ্ববর্তী দেশের গুলোর মাঝে ভারতে এই করের পরিমাণ ০.০৫ শতাংশ, পাকিস্তানে ০.০০০৬৫ শতাংশ, সিঙ্গাপুরে ০.০০৭৫ শতাংশ এবং হংকং এ ০.০০৫৬৫ শতাংশ। দৃশ্যতঃ পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন, ভারত, পাকিস্তান সিঙ্গাপুর, হংকং এর তুলনায় আমাদের দেশে সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর উৎসে করের (Turnover Tax) হার অনেক বেশী। এমতাবস্থায়, বর্তমানে বাজারে দৈনিক লেনদেনের পরিমান উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাওয়ায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর আয়ও আশংকাজনক হারে হ্রাস পেয়েছে এবং আয় না হলেও আয়কর দিয়ে যাচ্ছে।

এসময় ডিবিএ নেতারা পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর সাথে সামঞ্জস্য রেখে আমাদের দেশে এ উৎসে কর কর্তনের হার বিদ্যমান ০.০৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ০.০২০ শতাংশ করার জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ জানান।

তারা বলেন, সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর কমিশন ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান আয়ের উৎস। অত্যধিক হারে কর আরোপ করার ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর পক্ষে টিকে থাকা এবং পুঁজিবাজারে অবদান রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। কাজেই ব্রোকারেজ হাউজের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং পুঁজিবাজারকে সক্রিয় করে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর বিদ্যমান কর হার যৌক্তিক কারণে হ্রাস করা একান্ত প্রয়োজন। কার্যত, উৎসে কর সংগ্রহের হার হ্রাসের ফলে যে পরিমান কর রাজস্ব হ্রাস পাবে, লেনদেন বৃদ্ধির কারনে তার চেয়ে বেশী রাজস্ব বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

লোকসানের সমন্বয় ও জের টানা প্রসঙ্গে ডিবিএ জানায়, বিদ্যমান আয়কর আইনে ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী করদাতাদের মূলধনী ক্ষতির সমন্বয় বা জের পরবর্তী বছরগুলোতে টানার অনুমতি নেই। লোকসানের সমন্বয় ও জের টানার অনুমতি না থাকার ফলে উভয় শ্রেনীর বিনিয়োগকারী ক্ষতির মূখে পড়ে এবং বিনিয়োগে নিরুৎসায়ী হয়ে বাজার ত্যাগ করে। এর ফলে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়ে বাজারের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ব্যহত হয়। গত কয়েকবছর ধরে বাজারে মন্দা বিরাজ করায় অধিকাংশ বিনিয়োগকারী লোকসানের কবলে পড়ে চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে রয়েছে।

এরুপ পরিস্থিতিতে লোকসানে থাকা বিনিয়োগকারীদের পুঁজি ধরে রাখতে এবং বাজারের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বিদ্যমান আয়কর আইন ২০২৩ এর নবম অধ্যায়, ধারা ৭০ এর (৩) এর সাথে বর্ধিত বিধান সংযোজনের সুপারিশ জানায় ডিবিএ।

বিদ্যমান আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা নূন্যতম কর প্রযোজ্য হয় এইরুপ কোন উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানা যাবেনা। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত সুপারিশে ডিবিএ নেতারা কর অব্যাহতিপ্রাপ্ত, হ্রাসকৃত করহার বা নূন্যতম কর প্রযোজ্য হয় এইরুপ কোন উৎসের বা খাতের ক্ষতির সমন্বয় বা জের না টানা। তবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভূক্ত কোন সিকিউরিটিজ অথবা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন কর্তৃক অনুমোদিত মিউচুয়াল ফান্ড বা তহবিলের ইউনিট লেনদেনের মাধ্যমে মূলধনী ক্ষতির সমন্বয় বা জের টানার আবেদন করেন।

বর্তমানে দেশের প্রায় ১ (এক) কোটি জনগন প্রত্যক্ষ পরোক্ষভাবে পুঁজিবাজারের উপর নির্ভর উল্লেখ করে বিশ্বায়নের যুগে পুঁজিবাজারের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিতের জন্য সরকারের রাজস্বনীতির গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা আশা করছি সরকার আমাদের প্রদত্ত সুপারিশমালা সুবিবেচনায় নিয়ে আসন্ন বাজেটে এর বাস্তবায়ন করে পুঁজিবাজারের উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথ সুগম করবে।

অনুষ্ঠানে ডিবিএর প্রেসিডেন্ট সাইফুল ইসলাম বলেন, সিকিউরিটিজ লেনদেনের উপর কমিশন ব্রোকারেজ হাউজের প্রধান আয়ের উৎস। আমাদের পণ্য ভালো শেয়ার বা ভালো কোম্পানির শেয়ার। এখন বাজারে ভালো সিকিউরিটিজ নেই। কিন্তু বাজার খারাপের দোষ আছে আমাদের ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কাঁধে।

তিনি বলেন, গত কয়েকমাসে নতুন কোন আইপিও আবেদন পেন্ডিং নেই। বিশ্বের বাজারের ইতিহাসে দেশের পুঁজিবাজারের ইতিহাসে এমন ঘটনা আর নেই। ড. মোহাম্মদ ইউনূসের মতো একজন সরকার চালাচ্ছেন, কিন্তু তাও যদি আমরা বাজারকে না এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি, বাজারে নতুন প্রোডাক্ট না থাকে তবে বাজার কিভাবে চলবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024