শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

সরকারি বিদেশী ঋণ বেড়েছে ৩.৩৯ বিলিয়ন ডলার

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৯১ পড়া হয়েছে

গত ২০২৪ সালে দেশের সরকারি বিদেশী ঋণ ৩.৩৯ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। এই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), বিশ্বব্যাংক এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় ও বহু
পক্ষীয় উন্নয়ন অংশীদারদের কাছ থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণের কিস্তি পাওয়া গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষে সরকারের বকেয়া বিদেশী ঋণ দাঁড়িয়েছে ১০৩.৬৮ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে অন্তত ৮৪ বিলিয়ন ডলার দীর্ঘমেয়াদি ঋণ। এ ছাড়াও বেসরকারি বিদেশী ঋণ দাঁড়িয়েছে ১৯.৪২ বিলিয়ন ডলার। তবে সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসে বকেয়া বিদেশী ঋণ কমেছে ৭৩৬ মিলিয়ন ডলার।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা গত এক বছরে বিশ্বব্যাংক থেকে বাজেট সহায়তা তহবিল পেয়েছি। এর মধ্যে শুধু ডিসেম্বরেই পেয়েছি প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার। এ ছাড়া আইএমএফ ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি) থেকেও আমরা দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পেয়েছি। ফলে আমাদের পাবলিক সেক্টরে (সরকারি খাতে) ঋণ বেড়েছে।

অনেক অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিদেশী ঋণ নেওয়ার সমালোচনা করে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, কাঁচামালের জোগান নিশ্চিত না করেই রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো প্রজেক্ট নেওয়া হয়েছে। আবার অর্থনীতিতে কী পরিমাণ প্রোডাক্টিভিটি (উৎপাদনশীলতা) যোগ করবে, তা ঠিকমতো মূল্যায়ন না করে কর্ণফুলী টানেল তৈরি করা হয়েছে। এগুলো আমাদের জন্য বোঝা। কারণ, বিদেশী ঋণ নিয়ে প্রকল্প করার সময়ে ওই প্রকল্প থেকে রিটার্ন রেট, ঋণের সুদহার থেকে বেশি হতে হয়। বিগত সরকার এগুলো বিবেচনায় নেয়নি।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৪ সালে সরকারি খাতে ঋণ বেড়েছে প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার। এর বিপরীতে বেসরকারি খাতের ঋণ ১.৫ বিলিয়ন ডলার কমে গেছে। বেসরকারি খাতে বিদেশী ঋণ কেন কমছে, জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন বলেন, বেসরকারি খাতের স্বল্পমেয়াদি ঋণ বেশি কমেছে। এর একটি কারণ ২০২৩ সালে ডলার বাজারের অস্থিতিশীলতা। এ ছাড়া আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থার ঘাটতি ঋণ কমার একটি বড় কারণ। ২০২৪ সালে বেসরকারি খাত যে পরিমাণ নতুন ঋণ পেয়েছে, তারচেয়ে বেশি রিপেমেন্ট করেছে। বেসরকারি খাতে আস্থা পুরোপুরি ফিরেছে, এটা বলা যাবে না। তবে গত বছরের আগস্টের তুলনায় এখন আস্থাহীনতা কিছুটা হলেও কমেছে। তবে যেসব কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ কমেছে, সেগুলোকে ভালো বলা যাবে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুসারে, ২০২৪ সালে বেসরকারি খাত ১.৭৬ বিলিয়ন ডলার মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদী ঋণ পেয়েছে। এর বিপরীতে মূলধন, সুদ ও কমিশনসহ মোট ২.২৫ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। বেসরকারি খাতে বিদেশী ঋণের চাহিদা খুব বেশি কমেনি মন্তব্য করে জাহিদ হোসেন আরও বলেন, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার কান্ট্রি রেটিং কমিয়ে দেওয়া, বিদেশী পেমেন্ট সময়মতো না করাসহ অনেক কারণে বিদেশী ঋণের সরবরাহ আগের তুলনায় কমে গেছে। ফলে বেসরকারি খাতে চাহিদা থাকলেও তারা সবসময় পর্যাপ্ত লোন পাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একজন নীতিনির্ধারণী কর্মকর্তা বলেন, বিদেশী যেসব ঋণ নেওয়া হয়েছে, তার বড় অংশই দীর্ঘমেয়াদি হওয়ার কারণে এসব পরিশোধের চাপ কম। এসব ঋণের সুদহারও কম থাকে। তবে বিনিময় হার ওঠানামার বোঝা নিতে হচ্ছে। ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার এসব ঋণের যথাযথ ব্যবহার করলে এখন আমাদের এত বেশি সংকট হতো না। অনেক উন্নত দেশও বিদেশী ঋণ নিয়ে থাকে উল্লেখ করে ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, বিশ্বের অন্য অনেক দেশের তুলনায় আমাদের বিদেশী ঋণ-জিডিপি অনুপাত খুব বেশি নয়। আমরা বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে কীভাবে সেটা ব্যবহার করতে পারছি, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024