বাংলাদেশের জনপ্রিয় ও নন্দিত অভিনেত্রীদের তালিকায় শীর্ষস্থানীয় নাম দিলারা হানিফ পূর্ণিমা। নব্বই দশকের শেষভাগে ‘এ জীবন তোমার আমার’ সিনেমার মাধ্যমে রুপালি পর্দায় যাত্রা শুরু হয় তার। এই সিনেমা পরিচালনা করেন জাকির হোসেন রাজু, যিনি নিজেও একজন গুণী নির্মাতা হিসেবে পরিচিত। পূর্ণিমা অভিনয়ের শুরুতেই নিজের অভিনয়শৈলী দিয়ে দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হন। শুরু থেকেই তার ভিন্নধর্মী উপস্থিতি ও মাধুর্য মুগ্ধ করেছে সিনেমাপ্রেমীদের।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
প্রায় আড়াই দশক ধরে পূর্ণিমা বাংলা চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান দৃঢ়ভাবে ধরে রেখেছেন। সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলালেও তার রূপ, তার তারকা খ্যাতি কিংবা জনপ্রিয়তায় যেন বিন্দুমাত্র ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সাথে আরও বেশি পরিপক্ব হয়েছেন তিনি, হয়েছেন আরও প্রাণবন্ত।
বর্তমানে সিনেমায় তাকে নিয়মিত দেখা না গেলেও অভিনয় থেকে তিনি পুরোপুরি বিদায় নেননি। কিছু ওয়েব কনটেন্ট ও বিশেষ প্রজেক্টে মাঝেমধ্যে অভিনয় করতে দেখা যায় তাকে। সেইসঙ্গে পূর্ণিমা শোবিজের নানা অনুষ্ঠান ও আয়োজনে অংশ নিয়ে থাকেন।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
মঞ্চে বা স্ক্রিনে উপস্থিত না থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি ভীষণ সক্রিয়। ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকসহ নানা প্ল্যাটফর্মে তার বিশাল ফ্যানবেইজ রয়েছে। নিয়মিত তিনি ভক্তদের জন্য শেয়ার করে থাকেন ছবি, ভিডিও ও নানা আপডেট। আর সেই পোস্টগুলোতে ভক্তদের ভালোবাসায় যেন সয়লাব হয়ে যায় কমেন্ট সেকশন।
সম্প্রতি এমনই এক সাধারণ কিন্তু দৃষ্টিনন্দন লুকে ধরা দিলেন পূর্ণিমা। বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি পোস্ট দেন, যেখানে তিনি পরেছিলেন হালকা নীল সালোয়ার কামিজ এবং সাদা ওড়না। মেকআপে কোনো বাড়াবাড়ি ছিল না, ছিল না কোনো ঝাঁঝালো গয়না। বরং একদম সাধারণ, সিম্পল সাজেই তিনি যেন মুগ্ধ করলেন সবাইকে। ক্যামেরার সামনে নানা ভঙ্গিমায় ধরা দিয়েছেন তিনি, আর প্রতিটি ছবিতেই ছিল এক চিরচেনা মিষ্টি হাসি।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
এই পোস্ট ঘিরে ভক্তদের মন্তব্যে ভরে যায় সামাজিক মাধ্যম। কেউ লেখেন, “ছোট থেকে আপনাকে একই রকম দেখছি, আমরা তো বুড়ি হয়ে যাচ্ছি, আপনি সেই বয়সেই আটকে আছেন!” আরেকজন আফসোস করে লিখেছেন, “ছোটবেলার ক্রাশ ছিলেন, এখনো কত সুন্দর আপনি!” এমন প্রশংসা যেন পূর্ণিমার প্রতি মানুষের ভালোবাসার এক নিঃশব্দ দলিল।
পূর্ণিমার ক্যারিয়ারে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০০৩ সালে, মতিউর রহমান পানুর প্রযোজনায় নির্মিত ‘মনের মাঝে তুমি’ ছবির মাধ্যমে। ছবিটি ছিল দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এবং এই সিনেমার মাধ্যমে পূর্ণিমা আরও বেশি দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেন। এরপর ২০০৬ সালে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘হৃদয়ের কথা’ সিনেমায় তার অভিনয় আবারও প্রশংসিত হয়। এই দুটি ছবির মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তা যেমন আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে, তেমনি বাংলা সিনেমার ইতিহাসেও নিজের নামটি সোনালি অক্ষরে লিখে ফেলেন তিনি।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা
বিগত সময়ের এই পথচলায় পূর্ণিমা কখনোই নেতিবাচক আলোচনায় আসেননি, বরং সবসময়ই থেকেছেন পজিটিভ আলোচনার কেন্দ্রে। ব্যক্তিজীবনে শান্ত ও মার্জিত একজন মানুষ হিসেবে তার পরিচিতি। একজন তারকা হয়েও ব্যক্তিজীবনকে বর্ণিলভাবে গুছিয়ে রেখেছেন তিনি। শোবিজের অনেকেই যেখানে নানা বিতর্কে জড়ান, সেখানে পূর্ণিমা এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ।
সময় যতই এগিয়ে যাক না কেন, পূর্ণিমা সেই চিরচেনা রূপেই ভক্তদের হৃদয়ে জেগে থাকবেন—এটাই যেন প্রমাণ করে তার প্রতি মানুষের নিরন্তর মুগ্ধতা। অভিনয় হোক বা ব্যক্তিত্ব, সব ক্ষেত্রেই পূর্ণিমা সত্যিকারের এক আইকন।