নায়সা দেবগন—বলিউডের দুই জনপ্রিয় তারকা, কাজল ও অজয় দেবগনের কন্যা। রুপালি পর্দায় এখনো তাঁর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু না হলেও, ব্যক্তিগত জীবনের কারণে প্রায়শই থাকেন চর্চার কেন্দ্রে। মুম্বাইয়ের অভিজাত রেস্তোরাঁয় বন্ধুদের সঙ্গে রাতের খাবারে দেখা যাওয়া, ফ্যাশনেবল লুক কিংবা পার্টি মুড— এসব কিছু নিয়ে তিনি বারবার উঠে এসেছেন সংবাদমাধ্যম ও নেটদুনিয়ার আলোচনায়। কখনো তাঁর ফ্যাশন সেন্সের প্রশংসা, আবার কখনো কিছু বিতর্কিত ভিডিও নিয়ে বিতর্ক—সব মিলিয়ে লাইমলাইটে থাকা যেন তার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে মেয়ে নাইসা এবং ছেলে যুগকে নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী কাজল। তিনি শুধু একজন তারকা নন, বরং একজন মা হিসেবেও কীভাবে তিনি সন্তানদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, সে সম্পর্কে খোলাখুলি কথা বলেছেন। তার কথায় উঠে এসেছে সন্তানদের প্রতি তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ, তবে সজাগ মমত্ববোধ এবং স্বামী অজয় দেবগনের অভিভাবকসুলভ, রক্ষণশীল মনোভাবের কথাও।
সাক্ষাৎকারে কাজলকে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, প্রেম বা সম্পর্ক নিয়ে সন্তানরা সাধারণত বাবা না মা— কার সঙ্গে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে? উত্তরে কাজল জানান, কন্যা নাইসা সাধারণত প্রেম বা ভালোবাসা নিয়ে আলোচনা করতে আসে তার কাছেই। তিনি বলেন, “আমি নিশ্চিত, নাইসা কখনোই ওর বাবার কাছে প্রেম নিয়ে কথা বলতে পারবে না। ও জানে, এসব শুনলেই অজয় বলবে— ‘ছেলেটা কোথায়? এখনই ছেলেটাকে সামনে নিয়ে এসো!’ হাতে বন্দুকও তুলে নিতে পারে হয়তো।”

কাজলের এই মন্তব্য মজার হলেও, এর ভেতরে রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক বাস্তবতা— মেয়েরা অনেক সময় বাবার সামনে নিজের সম্পর্ক নিয়ে কথা বলতে ভয় পায়, কারণ বাবারা বেশিরভাগ সময়ই বেশি কঠোর হন। কাজলের বক্তব্যে উঠে এসেছে, নাইসার ক্ষেত্রেও তেমনটাই ঘটে। তবে তিনি নিজে মেয়ের প্রতি একজন বন্ধু ও ভরসার জায়গা হয়ে উঠেছেন, যার কাছে নাইসা নির্দ্বিধায় সব বলতে পারে।
অন্যদিকে, যুগ দেবগনের ক্ষেত্রে চিত্রটা পুরোপুরি ভিন্ন। কাজলের বর্ষীয়ান অভিনেতা স্বামী অজয় দেবগন এক সাক্ষাৎকারে জানান, তার সঙ্গে ছেলের সম্পর্ক খুব খোলামেলা। মাত্র ১৪ বছর বয়সী যুগও তার প্রেম ও অনুভূতির বিষয়গুলো নিয়ে বাবার সঙ্গে অবলীলায় আলোচনা করে।

অজয় বলেন, “আমরা একে অপরের সঙ্গে খুব খোলামেলা থাকি। ও আমার সঙ্গে ওর জীবনের সবকিছু নিয়েই কথা বলে, এমনকি প্রেম সম্পর্কেও। আমি ওকে কখনোই ভয় পাইয়ে রাখিনি, বরং এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছি, যেখানে ও আমার সঙ্গে সব কিছু নিয়ে আলোচনা করতে পারে।”

এমন একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বাবা-ছেলের মধ্যে থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন সন্তান কিশোর বয়সে পা রাখে। এই বয়সে আবেগ, সম্পর্ক এবং পরিচয়ের প্রশ্নগুলো ঘিরে থাকে নানা দ্বিধা ও জটিলতা। সেখানে একজন বাবা যদি সন্তানকে বুঝতে পারেন, তাহলে সেটা সন্তানের আত্মবিশ্বাস এবং মানসিক স্বাস্থ্য দুটোই গঠনে সহায়ক হয়।

নায়সার নাম সবসময়ই চর্চায় থাকে—তা সে ভালো হোক বা বিতর্কিত। কিছু ভিডিওতে তাকে পার্টি মুডে দেখা যাওয়ার পর, অনেকেই মন্তব্য করেন, তিনি মাদকাসক্ত বা উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপন করছেন। যদিও এসবের কোনও সত্যতা প্রমাণিত হয়নি, তবুও তারকা সন্তান হওয়ায় তার প্রতিটি পদক্ষেপ থাকে নজরে।

নেটদুনিয়ার এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও কাজল যথেষ্ট সচেতন। তিনি আগেও বলেছেন, তার সন্তানদের স্বাধীনতা রয়েছে নিজেদের মতো করে বড় হওয়ার, তবে সমাজের চোখও উপেক্ষা করা যায় না। নাইসা ব্যক্তিগতভাবে এখনো অভিনয়কে পেশা হিসেবে বেছে নেননি, তবে তিনি সোশ্যাল মিডিয়ার ‘ইনফ্লুয়েন্সার-প্রেসেন্স’ দিয়ে ইতোমধ্যেই নিজস্ব একটি ফ্যানবেস তৈরি করে ফেলেছেন।

অভিনয়জগতে নিজেদের পেশাগত জীবনে কাজল ও অজয় দুজনই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। কাজল অভিনয় করছেন ‘মা’ নামে একটি ভৌতিক চলচ্চিত্রে, যেখানে তাকে দেখা যাবে একজন কঠোর ও দায়িত্ববান মায়ের চরিত্রে। এই সিনেমাটি তার অভিনয়জীবনে নতুন মোড় আনবে বলেই ধারণা করছেন অনেকে।

অন্যদিকে অজয় দেবগন কাজ করছেন ‘রেড ২’ ছবিতে। এটি ২০১৮ সালের হিট সিনেমা ‘রেড’-এর সিক্যুয়েল। সেখানে তিনি ফের একবার কঠোর এবং ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানো এক আইআরএস অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করছেন।
সব মিলিয়ে কাজল-অজয় দেবগনের পরিবারে সম্পর্কের রসায়নই যেন তাদের আলাদা করে চিনিয়ে দেয়। একদিকে মা ও মেয়ের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অন্যদিকে বাবা ও ছেলের খোলামেলা আলোচনা—এই ভারসাম্যপূর্ণ পারিবারিক কাঠামো বলিউডের গ্ল্যামার জগতের বাইরেও একটি নিখুঁত দৃষ্টান্ত তৈরি করে।

নায়সা এখনও বড় পর্দায় আসেননি, কিন্তু তার ব্যক্তি জীবন, পরিবার এবং জনসমক্ষে তার উপস্থিতিই তাকে নিয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। ভবিষ্যতে তিনি যদি অভিনয়ের ময়দানে নামেন, তাহলে হয়তো এই চর্চা আরও বহুগুণে বাড়বে। কিন্তু তার আগেই, বাবা-মায়ের ছায়ায় বড় হওয়া তার জীবনও হয়ে উঠছে বলিউডের এক মজার এবং মানবিক গল্প।