শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

রোম পৌঁছেছেন প্রধান উপদেষ্টা, শুরু কূটনৈতিক তৎপরতা

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫
  • ৯০ পড়া হয়েছে

পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিতে রোমে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস

রোমান ক্যাথলিক গির্জার শীর্ষ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে ইতালির রাজধানী রোমে পৌঁছেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। শুক্রবার (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিট) তিনি রোমের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। তার সফরসঙ্গীরাও একই ফ্লাইটে রোমে পৌঁছান।

রোমে পৌঁছানোর পর বিমানবন্দরে ড. ইউনূসকে স্বাগত জানান ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিমানবন্দরে সংক্ষিপ্ত এক প্রটোকল অনুষ্ঠানে তাকে ফুল দিয়ে অভ্যর্থনা জানানো হয় এবং সফরসূচি সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক বিবৃতিতে জানান, পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ও হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই তিনি পোপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় উপস্থিত হয়ে বন্ধুর প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে গিয়েছেন। প্রেস সচিব আরও বলেন, “এটি কেবল আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ নয়, এটি একজন বন্ধুকে বিদায় জানানোর মানবিক দৃষ্টান্ত।”

উল্লেখ্য, পোপ ফ্রান্সিস গত সোমবার ৮৮ বছর বয়সে মারা যান। তিনি ২০১৩ সালে রোমান ক্যাথলিক গির্জার ২৬৬তম পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং টানা ১২ বছর ধর্মীয় নেতৃত্বে ছিলেন। তাঁর সময়কালে তিনি দারিদ্র্য বিমোচন, সামাজিক ন্যায়বিচার, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে উদ্যোগ, এবং আন্তঃধর্মীয় সংলাপকে গুরুত্ব দেন। এসব বিষয়েই ড. ইউনূসের সঙ্গে তাঁর আদর্শিক মিল ছিল, যা তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব গড়ে তোলে।

পোপের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল শনিবার, ভ্যাটিকান সিটিতে। এই রাষ্ট্রীয় মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিশ্বের বহু দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, রাজপরিবারের সদস্য, ধর্মীয় নেতা, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি এবং মানবাধিকার কর্মীরা অংশ নেবেন। বাংলাদেশের পক্ষে এই অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে ড. ইউনূসের উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

ড. ইউনূস এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে কাতারের রাজধানী দোহায় অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে সরাসরি তিনি রোমে পৌঁছান। দোহায় তার সরকারি সফরে তিনি কাতারের সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন। দোহা সফর শেষে রোমের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রোম সফরের মধ্য দিয়ে ড. ইউনূস একদিকে যেমন বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করছেন, তেমনি বৈশ্বিক মানবিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তুলছেন। তার এই সফর বাংলাদেশের জন্য একটি কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, বিশেষ করে যখন বিশ্বব্যাপী শান্তি ও সহনশীলতার বার্তা আরও প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।

পোপ ফ্রান্সিসের সঙ্গে ড. ইউনূসের সম্পর্কের ইতিহাস বেশ সমৃদ্ধ। তারা একাধিক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে একসঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং বিভিন্ন মানবিক বিষয়ে যৌথ বক্তব্য দিয়েছেন। ২০১5 সালে “ইকোনমি অব ফ্রান্সিস” ফোরামে ড. ইউনূসকে আমন্ত্রণ জানান পোপ নিজেই। সেই ফোরামে সামাজিক ব্যবসা, দারিদ্র্য দূরীকরণ ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়, যেখানে দুজনের চিন্তাধারা একে অপরের পরিপূরক হয়ে ওঠে।

রোম সফরকালে ড. ইউনূসের আরও কিছু কূটনৈতিক বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি ইতালির বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে পারেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও, ধর্মীয় সহাবস্থান ও আন্তঃসংলাপের উন্নয়নে রোমান ক্যাথলিক চার্চের অন্যান্য নেতাদের সঙ্গেও মতবিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

বিশ্ব যখন নানা সংকটে বিভক্ত, তখন ড. ইউনূস ও পোপ ফ্রান্সিসের মতো মানবিক নেতৃত্ব বিশ্ববাসীর জন্য আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে। তাঁদের মধ্যে যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও সমঝোতা বিদ্যমান, তা আজকের পৃথিবীতে অত্যন্ত মূল্যবান।

রোমে প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতি শুধু একজন বন্ধুর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণই নয়, বরং এক ধরনের নীরব বার্তা—শান্তি, সহমর্মিতা ও আন্তঃধর্মীয় সহাবস্থানই হতে পারে ভবিষ্যৎ বিশ্বের পথনির্দেশ।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024