প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা কমেছে গ্রামীণফোনের, ইপিএস কমেছে অর্ধেকের বেশি
পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত টেলিকম খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন পিএলসি ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, আলোচ্য প্রান্তিকে কোম্পানির নীট মুনাফা ও শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পেয়েছে।
বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চলতি হিসাববছরের প্রথম প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও অনুমোদনের পর তা প্রকাশ করা হয়। গ্রামীণফোনের একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় (EPS) দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ৬৯ পয়সা। অথচ ২০২৪ সালের একই প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৯ টাকা ৯১ পয়সা শেয়ারপ্রতি আয় করেছিল। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে গ্রামীণফোনের ইপিএস কমেছে ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এই আয় হ্রাসের পেছনে কী কারণ রয়েছে তা কোম্পানির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে জানানো না হলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে অতিরিক্ত ব্যয় এবং গ্রাহকসংখ্যার বৃদ্ধি হার কমে যাওয়া—এই তিনটি কারণ উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাব ফেলেছে।
তবে, ক্যাশ ফ্লোর (Cash Flow per Share) দিক থেকে গ্রামীণফোন কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে। প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ প্রবাহ দাঁড়িয়েছে ১৪ টাকা ১১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় কিছুটা বেশি। ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে ক্যাশ ফ্লো ছিল ১২ টাকা ৯৫ পয়সা। ক্যাশ ফ্লোর এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দেয় যে, কোম্পানির কার্যকর নগদ ব্যবস্থাপনা এখনো সুশৃঙ্খল রয়েছে।
এছাড়া, কোম্পানিটির আর্থিক ভিত্তি এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ৩১ মার্চ ২০২৫ তারিখে গ্রামীণফোনের শেয়ার প্রতি নিট সম্পদ মূল্য (Net Asset Value Per Share – NAVPS) ছিল ৫২ টাকা ৬৪ পয়সা। এটি কোম্পানির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগের নিরাপত্তা নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ইপিএস কমে যাওয়া সত্ত্বেও কোম্পানির ক্যাশ ফ্লো ও এনএভি পজিটিভ থাকায় ভবিষ্যতে এটি পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে পারে। তবে এজন্য টেলিকম খাতে প্রযুক্তিগত বিনিয়োগ, গ্রাহকসেবা উন্নয়ন, এবং অপারেশনাল ব্যয় হ্রাসের ওপর আরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
গ্রামীণফোন পিএলসি দেশের মোবাইল টেলিকম খাতে দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়ায় এবং টেলিকম খাতে নীতিনির্ধারণী চ্যালেঞ্জের কারণে কোম্পানিটিকে বিভিন্ন চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে। ডেটা ব্যবহারের হার বাড়লেও, তা থেকে আয় অনুপাতে না বাড়ায় মুনাফায় কিছুটা প্রভাব পড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গ্রামীণফোনের মতো বড় কোম্পানির জন্য এটি একটি সতর্ক সংকেত। কারণ, ধারাবাহিকভাবে মুনাফা হ্রাস পেতে থাকলে তা বিনিয়োগকারীদের আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে আগ্রহী, তারা কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও রূপকল্প সম্পর্কে আরও স্বচ্ছতা প্রত্যাশা করবেন।
তবে কিছু বিশ্লেষক মনে করছেন, এই ক্ষয়িষ্ণু প্রবণতা অস্থায়ী হতে পারে। কারণ ৫জি প্রযুক্তি চালুর প্রস্তুতি, ডিজিটাল সেবার পরিধি বৃদ্ধি এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা উন্নয়নে গ্রামীণফোনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল দিতে পারে আগামী প্রান্তিকগুলোতে।
পুঁজিবাজারে গ্রামীণফোনের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদনের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। ইপিএস কমলেও বাজারে প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে কোম্পানির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও মার্কেট রেসপন্সের ওপর।