শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

টেকসই সংস্কারে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস জাতিসংঘের

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ১৬ মে, ২০২৫
  • ১০৮ পড়া হয়েছে

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণে প্রস্তুতির জন্য বাংলাদেশকে টেকসই সংস্কারে সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কারী গোয়েন লুইস।

বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বাংলাদেশ সরকার ও জাতিসংঘ কান্ট্রি টিমের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির (জেএসসি) দ্বিবার্ষিক সভায় এ আশ্বাস দেন তিনি।

সভায় যৌথভাবে সভাপতিত্ব করেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং গোয়েন লুইস। এতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

লুইস বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে টেকসই সংস্কার, জলবায়ু সহনশীলতা, অর্থনৈতিক রূপান্তর, জেন্ডার সমতা ও সমাজের কেউ যেন পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য সহযোগিতা করতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্য বিগত বছরটি চ্যালেঞ্জিং ছিল, যদিও এই সময়ে বাংলাদেশের মানুষ আত্মমর্যাদাবোধ ও দৃঢ়তা প্রদর্শন করেছে। এই সময়ে বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অংশীদারত্বের জন্য তিনি গর্ববোধ করেন উল্লেখ করে বলেন, এই অংশীদারত্ব আমাদের যৌথ মূল্যবোধ ও আকাঙ্ক্ষার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

বৈঠকে জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন সহযোগিতা কাঠামোর (ইউএনএসডিসিএফ) বাস্তবায়ন মূল্যায়ন কর্মসূচির আওতায় ২০২৪ সালের বাংলাদেশের জাতিসংঘ কান্ট্রি রেজাল্ট রিপোর্ট প্রকাশ করার পাশাপাশি আগামী বছরের জন্য কৌশলগত অগ্রাধিকার অনুমোদন করা হয়।

২০২৪ সালে উন্নয়ন কর্মসূচিতে জাতিসংঘ ২১ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিয়েছে বাংলাদেশকে। এই অর্থায়নের আওতায় উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মসৃণ উত্তরণ কৌশল তৈরিতে সহায়তা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারত্বে ৪ হাজারের  বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ১১৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের টার্নওভার উন্নত করতে সহায়তা এবং ১১ হাজারের  বেশি তরুণ-তরুণীকে ডিজিটাল দক্ষতা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

জাতিসংঘের এ সহায়তার আওতায় অন্তত ৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা সেবা পেয়েছেন। এর মধ্যে শিশু সুরক্ষা কর্মসূচি থেকে উপকৃত হয়েছে ৫ লাখ ৮০ হাজার। এ ছাড়া সারা দেশে ৫৬ লাখ কিশোরীকে জরায়ুমুখের ক্যান্সার থেকে রক্ষা করার জন্য হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাসের টিকা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশে ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী মেয়েদের অন্তত ৯৩ শতাংশ টিকা পেয়েছে।

তাছাড়া জলবায়ু দুর্যোগে চিহ্নিত বছরে ৪ কোটি ৪০ লাখ ডলারের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় সহায়তা সমন্বয় করেছে সংস্থাটি। পাশাপাশি প্রায় ১৭ লাখ ২০ হাজার দুর্যোগকবলিত মানুষকে মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং ২০ লাখ মানুষের মধ্যে জলবায়ু ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা হয়েছে।

অর্থ সহায়তার পাশাপাশি শাসনব্যবস্থা ও লিঙ্গ সমতার কাজের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকার ৬৬ শতাংশ গ্রাম্য আদালত কার্যকর করতে সহায়তা করেছে জাতিসংঘ। প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ মানুষের কাছে এই সেবা পৌঁছে গেছে। এ ছাড়া, যৌন হয়রানি প্রতিরোধ ও সুরক্ষা বিলকে সমর্থনের পাশাপাশি গার্হস্থ্য সহিংসতা আইন সংশোধনের পক্ষেও প্রচার চালিয়েছে জাতিসংঘ।

বৈঠকে সরকার অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এক বছর বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ায় জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখতে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউএনএসডিসিএফ (২০২২-২০২৬) এক বছরের সম্প্রসারণের অনুমোদন দেয় জেএসসি।

বৈঠক শেষে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঘোষণাপত্র এবং যুব সম্পৃক্ততা নিয়ে জাতিসংঘ কী কী কাজ করে থাকে, তা নিয়ে একটি সেশন হয়।

সভায় অংশগ্রহণকারীরা গত বছরের ‘সামিট অফ দ্য ফিউচারের’ ধারাবাহিকতায় তরুণদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরেন এবং আন্তঃপ্রজন্ম সমতাকে জাতীয় নীতিমালার অগ্রাধিকার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা করেন।

এ সময় জাতিসংঘের চলমান অংশীদারত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের। পাশাপাশি সম্প্রসারিত ইউএনএসডিসিএফ এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করতে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শাহরিয়ার কাদের বলেন, বাংলাদেশ ক্লাইমেট ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের মতো জলবায়ু অর্থায়ন প্ল্যাটফর্মের অগ্রগতিকে আমরা স্বাগত জানাই। এ ব্যাপারে জাতিসংঘ ও উন্নয়ন অংশীদারদের সমর্থন অব্যাহত থাকা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, প্রধান উপদেষ্টার ‘তিন শূন্য নীতির’ লক্ষ্য পূরণে যুবকদের কর্মসংস্থান, সামাজিক উদ্যোগ এবং প্রভাবভিত্তিক অর্থায়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। একই সঙ্গে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় শাসনব্যবস্থা এবং আসন্ন সংস্কার ও নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের কার্যকর সহায়তা জরুরি।

এদিন সভা শেষে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরবর্তী পদক্ষেপে সম্মতি দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে—চলতি বছেরের শেষ নাগাদ ইউএনএসডিসিএফের চূড়ান্ত বছর মূল্যায়নের সূচনা এবং এসডিজি বাস্তবায়ন ও এলডিসি উত্তরণে গতি আনার প্রতিশ্রুতি।

ইউএনএসডিসিএফ কাঠামোটি এসডিজি অর্জনে জাতিসংঘের পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। এর মধ্যে রয়েছে—অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন; সমতার ভিত্তিতে মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কল্যাণ; টেকসই, সহনশীল ও উপযোগী পরিবেশ; রূপান্তর, অংশগ্রহণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সুশাসন এবং লিঙ্গ-সমতা ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা নির্মূল।

জেএসসির পরবর্তী সভা চলতি বছরের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের ঢাকা কার্যালয়।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024