ভারতের প্রো-কাবাডি লিগ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম জনপ্রিয় কাবাডি প্রতিযোগিতা। এই লিগে অংশ নিতে বাংলাদেশ কাবাডি ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি ঢাকঢোল পিটিয়ে ১০ জন খেলোয়াড়ের নাম পাঠিয়েছিল নিলামের জন্য। ফেডারেশন এই তালিকাকে রীতিমতো ‘ঐতিহাসিক’ বলেও দাবি করেছিল। সাধারণ সম্পাদক এসএম নেওয়াজ সোহাগ একে বলেছিলেন বড় অর্জন ও মাইলফলক।
কিন্তু বাস্তবতা হলো—এই ১০ জনের মধ্যে প্রো-কাবাডিতে বিক্রি হয়েছেন মাত্র একজন। তিনি নৌবাহিনীর রেইডার শাহ মোহাম্মদ শাহান। হরিয়ানা স্টিলার্স তাঁকে দলে নিয়েছে ১৩ লাখ ভারতীয় রুপীতে। মৌলভীবাজারের এই সন্তানই হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ থেকে যেসব খেলোয়াড়ের নাম পাঠানো হয়েছিল তাঁরা হলেন: মিজানুর রহমান, লিটন আলী, আরিফ রাব্বানী, রাসেল হাসান, রাজীব আহমেদ, রোমান হোসেন, দীপায়ন গোলদার, মনিরুল চৌধুরী, আল আমিন এবং শাহ মোহাম্মদ শাহান।
ফেডারেশন দাবি করেছিল, মিজানুর, লিটন ও আরিফ সাম্প্রতিক ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে দুর্দান্ত পারফর্ম করেছেন। ফলে দলগুলোর নজর থাকবে তাদের দিকে—এমন আশা করা হয়েছিল। এমনও বলা হয়েছিল, খেলোয়াড় চাহিদায় বাংলাদেশ এখন ইরানের পরেই, পেছনে ফেলেছে নেপাল, কেনিয়া ও থাইল্যান্ডকে।
কিন্তু বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। নিলামে বাংলাদেশি খেলোয়াড়দের প্রতি ছিল না তেমন কোনো আগ্রহ। শুধু শাহ মোহাম্মদ শাহানকে দলে নিয়েছে হরিয়ানা স্টিলার্স। বাকি নয়জনের প্রতি দলগুলোর কোনো আগ্রহই ছিল না বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়া ও নেপাল থেকে দুইজন করে খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন প্রো-কাবাডিতে। সবচেয়ে বেশি, ১৯ জন খেলোয়াড় সুযোগ পেয়েছেন ইরান থেকে। সেখানে বাংলাদেশ থেকে সুযোগ পেয়েছেন মাত্র একজন।
মৌলভীবাজারের কাবাডি সংগঠক ও ফেডারেশনের সাবেক সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলেও লাভের মুখ দেখাতে পারেনি কাবাডি ফেডারেশন। ঘরোয়া কাবাডি উন্নয়নে মন না দিয়ে বিদেশ সফরে খরচ বাড়ানো হচ্ছে। তারই প্রমাণ এই নিলাম। মাত্র একজন খেলোয়াড় বিক্রি হওয়া আমাদের জন্য বড় ব্যর্থতা। তবে শাহ মোহাম্মদ শাহান আমাদের জেলার গর্ব। সবাইকে পেছনে ফেলে সে যেভাবে জায়গা করে নিয়েছে, তাকে আমি অভিনন্দন জানাই।’
প্রো-কাবাডি লিগের নতুন আসর শুরু হবে অক্টোবর থেকে। সেই আসরে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে খেলবেন শাহ মোহাম্মদ শাহান।