শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ মনপুরা প্রাথমিক অফিসের হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২৫ জুন, ২০২৫
  • ১৮০ পড়া হয়েছে

ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ মনপুরা প্রাথমিক অফিসের হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে

ভোলা জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা মনপুরায় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের এক হিসাব সহকারীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় একাধিক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, নির্ধারিত বেতন-ভাতা, চিকিৎসা বিল ও অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা সময়মতো পেতে হলে হিসাব সহকারীকে অবৈধ অর্থ দিতে বাধ্য করা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে, যা দিন দিন বিস্তৃত আকার নিচ্ছে।

অভিযোগে বলা হয়, স্কুলগুলোর শিক্ষকদের দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অজুহাতে ভোগান্তিতে ফেলা হয়। একজন শিক্ষক যদি ঘুষ দিতে অস্বীকার করেন, তবে তার বিল পাস করানো বিলম্বিত করা হয়, কিংবা অপ্রয়োজনীয় ত্রুটি দেখিয়ে তা আটকে দেওয়া হয়। এমনকি অনেকে অভিযোগ করেছেন, বিল পাস করতে গেলে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে হয়—যা স্থায়ীভাবে ‘চলতি নিয়ম’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়ে গেছে।

উপজেলার অন্তত দশটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীরা মিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। অভিযোগে সংশ্লিষ্ট হিসাব সহকারীর নাম-পরিচয় উল্লেখ করে তার কার্যক্রম তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

অভিযোগকারী এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রতিবার কোনো বিল তুলতে গেলেই হিসাব সহকারী সরাসরি টাকা দাবি করেন। কেউ দিতে না চাইলে নানা অজুহাতে হয়রানি শুরু হয়। এটা এখন আর ব্যক্তিগত বিষয় নয়, পুরো দপ্তরের পরিবেশই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”

অপরদিকে অভিযুক্ত হিসাব সহকারী অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিছু অসাধু ব্যক্তি নিজেদের সুবিধা না পেয়ে আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছেন।”

অবশ্য শিক্ষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরেই তারা এসব অনিয়মের শিকার হচ্ছেন, কিন্তু কোনো অভিযোগ করলে হয়রানি আরও বেড়ে যেত। সম্প্রতি কয়েকজন সাহস করে একসঙ্গে অভিযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেন। তাতে অন্যান্য ভুক্তভোগীরাও যুক্ত হয়ে পড়েন এবং একটি সমন্বিত লিখিত অভিযোগ তৈরি করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়।

মনপুরা উপজেলা শিক্ষা অফিসের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই তদন্ত কার্যক্রম শুরু হবে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, “সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। একজন কর্মকর্তা সরকারি দায়িত্ব পালনের নামে যদি ঘুষ বাণিজ্যে লিপ্ত থাকেন, তবে তদন্তসাপেক্ষে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, শিক্ষা খাতে এমন দুর্নীতি ও হয়রানি অত্যন্ত দুঃখজনক। শিক্ষক সমাজ যদি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হন, তাহলে তার প্রভাব শিক্ষার্থীদের ওপরও পড়বে। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষী ব্যক্তি চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসন কতটা দ্রুত এবং কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। অভিযোগ সত্য হলে এটি শুধু মনপুরার নয়, দেশের অন্যান্য প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষা দপ্তরেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাহসী প্রতিবাদের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024