শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

ট্রাম্পের সাথে বাণিজ্য চুক্তি ইন্দোনেশিয়ার, নতুন শুল্ক ১৯ শতাংশ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ১৬ জুলাই, ২০২৫
  • ৬৯ পড়া হয়েছে

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। মঙ্গলবার এ তথ্য দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি বলেছেন, এই চুক্তিতে পৌঁছাতে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর সঙ্গে সরাসরি কাজ করেছেন তিনি।

পরে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি করা পণ্যে ১৯ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। এই চুক্তির অধীনে ইন্দোনেশিয়া আমেরিকান রফতানির ওপর কোনো শুল্ক আরোপ করবে না।

পরবর্তীতে ট্রুথ সোশ্যালে একটি পোস্টে তিনি বলেন যে চুক্তিটি ‘চূড়ান্ত’ হয়েছে। তবে, মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়ার সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এমন কোনো ঘোষণা আসেনি।

ট্রাম্প আরও বলেন যে ইন্দোনেশিয়া ‘১৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের আমেরিকান পণ্য, ৪.৫ বিলিয়ন ডলার মূল্যের কৃষি পণ্য এবং ৫০টি বোয়িং জেট বিমান কিনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে—যার বেশিরভাগই ৭৭৭ মডেলের।’

পিটসবার্গে একটি সম্মেলনে ভাষণ দিতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে তিনি বলেন যে ইন্দোনেশিয়া ‘উচ্চমানের তামার জন্য পরিচিত, যা আমরা ব্যবহার করব।’

যার অর্থ হতে পারে যে আগস্ট ১ থেকে ট্রাম্প যদি সব তামা আমদানিতে ৫০% শুল্ক বসানোর হুমকি বাস্তবায়ন করেন, তাহলে ইন্দোনেশিয়ার তামার ওপর কম বা কোনো শুল্কই আরোপিত নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইন্দোনেশিয়া যুক্তরাষ্ট্রে ২০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের তামা রফতানি করেছিল, যা শীর্ষ সরবরাহকারী চিলি (৬ বিলিয়ন ডলার) এবং কানাডার (৪ বিলিয়ন ডলার) তুলনায় অনেক কম।

সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লুটনিক বলেন, ‘সেখানে কোনো শুল্ক নেই; তারা এখানে শুল্ক দেয়। আমরা অসমতাকে আমাদের অনুকূলে নিয়ে আসছি।’

ট্রাম্প বলেন যে ভারতও একটি বাণিজ্য চুক্তি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ‘একই পথে কাজ করছে’।

গত এপ্রিল মাসে, ট্রাম্প ইন্দোনেশিয়ার পণ্যের ওপর ৩২% শুল্ক বসিয়েছিলেন, কিন্তু পরে এই ‘পারস্পরিক’ শুল্ক স্থগিত করেছিলেন। গত তিন মাস ধরে যেসব দেশের ওপর শুল্ক আরোপের কথা ছিল, তাদের ওপর ন্যূনতম ১০% শুল্ক দেওয়া হয়েছে। এটি আগস্ট ১ তারিখে শেষ হওয়ার কথা।

ট্রাম্প মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে লিখেন, ‘সবার জন্য চমৎকার একটি চুক্তি, এইমাত্র ইন্দোনেশিয়ার সাথে করা হয়েছে। আমি সরাসরি তাদের অত্যন্ত সম্মানিত প্রেসিডেন্টের সাথে আলোচনা করেছি। বিস্তারিত শীঘ্রই আসছে!’

এটি ট্রাম্পের তিন মাসে চতুর্থ বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা। তিনি এর আগেও একই সময়ের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য অংশীদারদের সাথে অনেকগুলো চুক্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু সেগুলো বাস্তবায়ন করা কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।

এর আগে, এই মাসের শুরুতে ভিয়েতনামের সাথে একটি চুক্তি ঘোষণা করেছিলেন ট্রাম্প, সেটিও ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেই চুক্তি সম্পর্কে এখনও কোনো অতিরিক্ত তথ্য দেয়া হয়নি।

ট্রাম্পের অস্থির বাণিজ্য নীতি অনেক ব্যবসাকে স্থবির করে ফেলেছে। কিছু ব্যবসায়ী আশঙ্কা করছেন যে বিদেশে উৎপাদিত পণ্যের জন্য তাদের নতুন অর্ডারগুলোর উপর আকস্মিকভাবে অনেক বেশি হারে শুল্ক আরোপিত হতে পারে, কারণ ট্রাম্প যেকোনো সময় একটি দেশের রফতানি শুল্কের হার বদলে দিতে পারেন।

ট্রাম্প বলেছেন কোম্পানিগুলো উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নিয়ে এসে এই ঝামেলা এড়াতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এত সহজ নয়: ব্যবসায়ীদের শুধু উপযুক্ত শ্রমিক খুঁজে পেতেই সমস্যা হতে পারে না, বরং উৎপাদন সুবিধা চালু করতে কয়েক বছর এবং কোটি কোটি ডলার খরচ হতে পারে। তারপর, উৎপাদন যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে আনার পর খরচ বেড়ে যেতে পারে, যা আমেরিকান ভোক্তাদের জন্য দাম বাড়িয়ে দেবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া আমেরিকার ২৩তম বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়া থেকে ২৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য আমদানি করেছে, যেখানে পোশাক ও জুতাই ছিল শীর্ষ দুটি পণ্য।

অন্যদিকে, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ায় ১০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের পণ্য রফতানি করেছে। তেলবীজ ও শস্য এবং পেট্রোলিয়াম ও গ্যাস ছিল শীর্ষ দুটি রফতানি পণ্য।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024