বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগামী বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথমার্ধের জন্য মুদ্রানীতি বিবৃতি (MPS) ঘোষণা করবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। রাজধানীর মতিঝিলে অবস্থিত বাংলাদেশ ব্যাংকের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মুদ্রানীতি প্রকাশ করবেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (২৯ জুলাই), বাংলাদেশ ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। মুদ্রানীতির এই ঘোষণায় দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
প্রত্যাশা করা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা—এই চারটি বড় লক্ষ্যকে কেন্দ্র করেই এবারকার মুদ্রানীতির কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বিশেষ করে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতির চাপ এবং বৈদেশিক মুদ্রার সংকট অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে, যা থেকে উত্তরণে কিছু কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিএফআইইউ প্রধান, মুখ্য অর্থনীতিবিদ, এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। তারা নতুন মুদ্রানীতির লক্ষ্য ও উপায় তুলে ধরবেন, একই সঙ্গে পূর্ববর্তী মুদ্রানীতির অর্জন ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও বিশ্লেষণ করবেন।
নতুন মুদ্রানীতিতে কনজারভেটিভ বা রক্ষণশীল মনোভাব না রেখে কিছুটা উদার নীতিমালার ইঙ্গিত থাকতে পারে, যাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ তরান্বিত হয়। এতে করে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনীতির গতিশীলতা রক্ষা পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, ব্যাংকিং খাতের সক্ষমতা বাড়াতে এবং অর্থ পাচার রোধে বিএফআইইউ নতুন নির্দেশনা ও নজরদারি পদ্ধতির ঘোষণাও দিতে পারে। এতে করে অর্থনীতির আনুষ্ঠানিক খাত শক্তিশালী হবে এবং বৈধ বিনিয়োগ উৎসাহিত হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে কার্যকর মুদ্রানীতি কেবল আর্থিক সূচক নয়, বরং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বিবেচিত হবে। সেই দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এই পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।
আশা করা যায়, এবারের মুদ্রানীতিতে বাস্তবমুখী ও সময়োপযোগী নীতিমালা থাকবে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এখন দেখার বিষয়, মুদ্রানীতির এই ঘোষণায় বাজার ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কী ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।