২০২৫-২৬ অর্থবছরের শুরুতেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে আমদানি-রপ্তানির পরিমাণে গভীর পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সরকারি পণ্যে নিষেধাজ্ঞা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং ভারতীয় সীমান্তে ট্রাক চলাচলের জটিলতা এই পতনের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শুধু জুলাই মাসেই আমদানি কমেছে প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন এবং রপ্তানি কমেছে ২১ হাজার মেট্রিক টন। এ ধসের প্রভাব পড়েছে ব্যবসা, শ্রমিক ও পরিবহন খাতে— যা দেশের রাজস্ব আয়ে সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তুলনামূলক পরিসংখ্যান:
২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি: ২১ লাখ ৩০ হাজার ২২৮ মেট্রিক টন
২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানি: ২০ লাখ ৫৬ হাজার ২৮১ মেট্রিক টন
→ হ্রাস: ৭৩,৯৪৭ মেট্রিক টন
২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানি: ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন
২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি: ৪ লাখ ২০ হাজার ৭৫০.১৪ মেট্রিক টন
→ হ্রাস: ৩৫,৯২১.৮৬ মেট্রিক টন
চলতি জুলাই মাসেও এই ধারা অব্যাহত রয়েছে, যেখানে জুনে আমদানি ছিল ১ লাখ ৪ হাজার টন, তা জুলাইয়ে নেমে এসেছে লাখের নিচে। একইভাবে, জুলাই মাসে রপ্তানি কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ হাজার ৩৫১.১৮ মেট্রিক টনে।
সংকটের মূল কারণসমূহ:
সরকার কর্তৃক কিছু পণ্যে উচ্চ শুল্ক ও আমদানি নিষেধাজ্ঞা
ভারতের আকাশপথ ও স্থলপথে বাংলাদেশি পণ্য পরিবহনে বিধিনিষেধ
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও ট্রাক চলাচলে বাধা
ট্রাক চলাচলের বর্তমান অবস্থা:
আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ ট্রাক ভারত থেকে পণ্য নিয়ে আসতো, এখন তা ৩০০-র নিচে। রপ্তানিও ১০০ ট্রাকের নিচে নেমে এসেছে।
পণ্যের ধরন:
আমদানি: কাঁচামাল, শিশু খাদ্য, মোটর পার্টস, কসমেটিকস
রপ্তানি: পাটজাত পণ্য, গার্মেন্টস, কেমিক্যাল, বসুন্ধরা টিস্যু, মাছ
ভবিষ্যতের আশঙ্কা:
বেনাপোলের ব্যবসায়ীদের মতে, এ সংকট অব্যাহত থাকলে বন্দরের বাণিজ্য আরও সংকুচিত হবে। তারা সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবিলম্বে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিষেধাজ্ঞা শিথিলের দাবি জানিয়েছেন।