যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক আরোপের পর ভারতের তৈরি পোশাকের অর্ডার স্থগিত করেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে বেশ কিছু কোম্পানি ভারত থেকে পোশাক উৎপাদন অন্য দেশে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে, যার ফলে দেশটির পোশাক খাত বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
তুরস্কের গণমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড এবং বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন ক্রেতাদের অনেকেই উৎপাদন কম খরচের দেশগুলোতে স্থানান্তরের পক্ষে মত দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্র্যান্ড গ্যাপ ও কোল’সের সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান পার্ল গ্লোবাল জানিয়েছে, ক্রেতাদের উদ্বেগ বেড়েছে এবং তারা বাড়তি খরচ এড়াতে চাইছেন।
পার্ল গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক পল্লব ব্যানার্জি বলেন, “আমাদের বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও গুয়াতেমালা কারখানা থেকে অনেকে চাইছেন ভারত বাদ দিয়ে অন্য দেশে উৎপাদন হোক।”
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ঘোষণা অনুযায়ী, ভারতের পণ্যের ওপর মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, যার প্রথম ২৫ শতাংশ ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে এবং বাকি ২৫ শতাংশ আগস্টের শেষে শুরু হবে। অন্যদিকে, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ এবং চীনের ওপর ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপ রয়েছে।
ভারতের রিচাকো এক্সপোর্টস ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১১৩ মিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। তাদের মহাব্যবস্থাপক দিনেশ রহেজা জানান, শিল্পে ‘খরা’ দেখা দিয়েছে এবং নেপালের কাঠমান্ডুতে উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা চলছে।
ভারতের শীর্ষ পোশাক প্রস্তুতকারক রেমন্ডের অর্থ বিভাগের প্রধান অমিত আগরওয়াল বলছেন, ইথিওপিয়া মার্কিন শুল্ক মাত্র ১০ শতাংশ, তাই তারা সেখানকার একটি কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর কথা ভাবছেন।
তামিলনাড়ুর তিরুপপুর, যা ভারতের নিটওয়্যার রাজধানী, এখান থেকে রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হয়। বর্তমানে এখানকার কারখানাগুলো অর্ডার স্থগিত ও শুল্ক বৃদ্ধির কারণে উদ্বিগ্ন।
তিরুপপুর এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এন থিরুকুমারন জানান, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তিরুপপুরের পোশাকের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হচ্ছে, যা খাতের জন্য বড় ধাক্কা।