ভারত আবারও বাংলাদেশি পাটপণ্যের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এবার চার প্রকার পাটজাত পণ্য স্থলবন্দর দিয়ে আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এই পণ্যসমূহ মুম্বাইয়ের নভোসেবা সমুদ্র বন্দর দিয়ে আমদানির সুযোগ রাখা হয়েছে।
সোমবার (১১ আগস্ট) ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য অধিদফতর থেকে এ নিষেধাজ্ঞার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে পাটের বস্তা ও ব্যাগ, ব্লিসড ও আনব্লিসড বোনা কাপড়, পাটের সুতা কর্ডেজ দড়ি।
গত ছয় মাসে ভারত চার দফায় বাংলাদেশ থেকে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর আগে মে মাসে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন পণ্যের আমদানিতে বিধিনিষেধ দেয় ভারত। এরপর এপ্রিল মাসে কলকাতা বিমানবন্দর ব্যবহার করে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানির সুবিধা প্রত্যাহার করা হয়। জুন মাসে কাঁচা পাটসহ কয়েক ধরনের পাটজাত পণ্যের স্থলপথে আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফ জানান, ভারত অশুল্ক বাধা আরোপ করতে পারে, তা আগে থেকেই ধারণা ছিল এবং সে অনুযায়ী কিছু প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরে পলিথিনের পরিবর্তে পাটের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কাঁচাপাটের পরিবর্তে মূল্য সংযোজিত পণ্য রপ্তানির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য সুফল বয়ে আনবে।
পাট ও বস্ত্র রপ্তানিকারক সংগঠনের সভাপতি রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, স্থলপথে পাটপণ্যের সহজ আমদানি নিষেধাজ্ঞায় ভারতীয় আমদানিকারকদের জন্য বড় ধাক্কা লাগবে। বর্তমানে মুম্বাইয়ের সমুদ্র বন্দর দিয়ে পণ্য নিয়ে আসতে হয়, যা পরিবহন ব্যয় ও সময় উভয় দিক থেকে বহুগুণ বাড়িয়েছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার ফলে ভারতকে রপ্তানি বাজার হিসেবে ধরে রাখা বাণিজ্যিকভাবে কঠিন হবে। তবে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজার লক্ষ্য করে মান উন্নয়ন ও বৈচিত্র্য আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে এ প্রতিবন্ধকতা পাট শিল্পের জন্য সুফল দেবে।