আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বাংলাদেশের ২০টির বেশি জেলা ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকির মুখে থাকতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়া ডটকমের প্রধান আবহাওয়াবিদ মোস্তফা কামাল পলাশ। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই পরিস্থিতি ভারতের **“পানি সন্ত্রাস”**ের কারণে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই শঙ্কার কথা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫–১০টি জেলা এবং ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ১৫–২০টি জেলা ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়তে পারে।
মোস্তফা কামাল পলাশ বলেন, “গত ১১ আগস্ট আমি প্রথম দেশের বড় মানের বন্যার পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। তবে রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে তখন তথ্যটি প্রকাশ করা হয়নি। এখন পরিস্থিতির তীব্রতা এবং মানুষের নিরাপত্তা বিবেচনা করে তথ্যটি শেয়ার করা বাধ্যতামূলক হয়ে পড়েছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ভারত বর্ষা মৌসুমে পদ্মা নদীর উজানে অবস্থিত ফারাক্কা বাঁধের গেট বন্ধ রাখায় গঙ্গা ও এর শাখা নদীগুলোতে অতিরিক্ত পানি আটকে যাচ্ছে। জুলাই মাসের ১৫ তারিখ থেকে তিনি এই প্রক্রিয়া বিশ্লেষণ শুরু করেছিলেন। ১২ ও ১৩ আগস্ট ভারি বর্ষণ এবং নদীর পানির চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পদ্মা ও তার শাখা নদীগুলোর আশেপাশের জেলা বন্যার ঝুঁকিতে পড়েছে।
ফারাক্কা বাঁধের সমস্ত গেট ১৩ আগস্ট থেকে খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে বাঁধে জমে থাকা পানি কমাতে আরও ১–২ সপ্তাহ গেট খোলা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পদ্মা নদী ও তার শাখা নদীগুলো দিয়ে পানি প্রবাহ শুরু হওয়ায় রাজশাহী, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগের অনেক জেলা বন্যাকবলিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আজ থেকেই রংপুর বিভাগের তিস্তা ও দুধকুমার নদী বন্যা বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, গাইবান্ধা এবং রাজশাহী ও খুলনা বিভাগের বিভিন্ন এলাকা বন্যার প্রভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী রবিবার থেকে এই পরিস্থিতি আরও ১৫–২০ জেলার মধ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ মনে করিয়ে দেন, এই বন্যা প্রাকৃতিক নয়, বরং প্রতিবেশী ভারতের পানি ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের নদীবন্দর এলাকার মানুষের জন্য বিপদ তৈরি হচ্ছে। তিনি দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।