১৮৯৭ সালের ২০ আগস্ট ব্রিটিশ ডাক্তার প্যাট্রিক ম্যানসন ও ভারতীয় মেডিক্যাল অফিসার রোনাল্ড রস প্রমাণ করেন যে অ্যানোফিলিস মশা ম্যালেরিয়া পরজীবী বহন করতে পারে। এই আবিষ্কারের জন্য রোনাল্ড রস নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তীতে লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিন এ দিনটিকে বিশ্ব মশা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।
২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য হলো:
“একটি ন্যায়সঙ্গত বিশ্বের জন্য ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই ত্বরান্বিত করা”
এ প্রতিপাদ্য বৈশ্বিক সহযোগিতা ও সবার জন্য ন্যায্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেয়।
উষ্ণ-আর্দ্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পরিবেশ মশা প্রজননের জন্য অত্যন্ত অনুকূল। এ পর্যন্ত দেশে ১২৬ প্রজাতির মশা শনাক্ত হয়েছে, যার মধ্যে ঢাকা শহরে পাওয়া যায় প্রায় ১৪ থেকে ১৬ প্রজাতি। মশাবাহি রোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো:
ডেঙ্গু
চিকুনগুনিয়া
ম্যালেরিয়া
ফাইলেরিয়া
জাপানিজ এনকেফালাইটিস
১৯৬৩: ঢাকায় প্রথম শনাক্ত হয়, নাম ছিল ঢাকা ফিভার।
২০০০: প্রথম বড় আকারে প্রাদুর্ভাব হয়, আক্রান্ত হন ৫,৫৫১ জন এবং মারা যান ৯৩ জন।
২০১৯: এপিডেমিক আকার ধারণ করে; আক্রান্ত ১,০১,৩৫৪ জন, মৃত্যু ১৭৯ জন।
২০২৩: সর্বোচ্চ আক্রান্তের রেকর্ড—৩,২১,১৭৯ জন রোগী, মৃত্যু ১,৭০৫ জন।
২০২৪: ৯ হাজারেরও বেশি রোগী ও মৃত্যু ৭৫ জন।
ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার দুটি প্রজাতি—এডিস ইজিপ্টি (শহরের মশা) এবং অ্যালবোপিকটাস (গ্রামের মশা)।
চিকুনগুনিয়া: বাংলাদেশে প্রথম ধরা পড়ে ২০০৮ সালে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় ২০১৬-১৭ সালে।
ম্যালেরিয়া: অ্যানোফিলিস মশার সাতটি প্রজাতি বাংলাদেশে ম্যালেরিয়া ছড়ায়। বর্তমানে পার্বত্য ও সীমান্ত এলাকার ১৩ জেলার ৭২ উপজেলায় এর প্রাদুর্ভাব রয়েছে।