শিরোনাম :
বিএনপি পন্থী কৃষিবিদ সংগঠনে আওয়ামী সুবিধাভোগীদের পুনর্বাসনের তৎপরতা! পুঁজিবাজারে বস্ত্র খাতের কোম্পানি বাড়াতে সেমিনার করবে বিজিএমইএ ৫০ কোটি টাকা কর ফাঁকি : সাঈদ খোকন ও তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব জব্দ বিকাশ থেকে ব্যাংক, ব্যাংক থেকে রকেট: এক প্ল্যাটফর্মে হবে সব লেনদেন জবিতে এনআরবিসি ব্যাংকের আর্থিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাংলাদেশ আরটিজিএস ব্যবস্থায় নতুন লেনদেন সূচি ঘোষণা বাংলাদেশ রপ্তানি এলসি কমেছে ১১.১১%, মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি হ্রাসের প্রভাব আগোরা লিমিটেড অ্যাকাউন্টস সুপারভাইজার পদে নিয়োগ, আবেদন শেষ ৩০ অক্টোবর ২০২৫ ইসলামী ব্যাংক শুদ্ধি অভিযান: ৪০০ কর্মী চাকরি হারালেন, দক্ষতা যাচাইয়ের অংশ চট্টগ্রাম বন্দর ট্যারিফ বৃদ্ধি: ১৪ অক্টোবর থেকে নতুন হারে কনটেইনার হ্যান্ডলিং খরচ বৃদ্ধি

বেনাপোল কাস্টমসে জাল মেনিফেস্টো কেলেঙ্কারি: কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

রিপোর্টার নাম
  • আপডেট সময় : বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫
  • ৭৭ পড়া হয়েছে
বেনাপোল কাস্টমসে জাল মেনিফেস্টো কেলেঙ্কারি

বেনাপোল কাস্টমসে জাল মেনিফেস্টো কেলেঙ্কারি: কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে জাল মেনিফেস্টোর মাধ্যমে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য আমদানির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় কাস্টমসের নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে নিয়মিতভাবেই পণ্য বোঝাই ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, যা দেশের বৈধ বাণিজ্য পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করেছে।

কার্গো মেনিফেস্টো কী?
পণ্যের নাম, পরিমাণ, ওজন, উৎস দেশ ও গন্তব্যস্থলসহ আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকের বিস্তারিত তথ্য যে নথিতে উল্লেখ থাকে সেটিই কার্গো মেনিফেস্টো। এই নথির ভিত্তিতেই আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়ায় শুল্ক আরোপ করা হয়। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে সেই নথিকেই কৌশলে জালিয়াতি করে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ ও অনিয়মের চিত্র
২০২৩-২৪ অর্থবছরে বেনাপোল কাস্টমসে জমা দেওয়া ৮৯১টি মেনিফেস্টোর মধ্যে মাত্র ২১৭টি ছিল বৈধ। বাকি ৬৭৪টি মেনিফেস্টোর তথ্য কাস্টমসের ‘অ্যাসাইকুডা’ সিস্টেমে মেলেনি। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্তও ৫০১টি মেনিফেস্টোর বিপরীতে কোনো বিল অব এন্ট্রি জমা দেওয়া হয়নি। এর ফলে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির পাশাপাশি অবৈধভাবে কসমেটিকস, ফেব্রিক্সসহ উচ্চ শুল্কের পণ্য দেশে প্রবেশ করেছে।

তদন্ত প্রক্রিয়া
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এ বিষয়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসকে একাধিকবার ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ও ৫ মে পাঠানো দুটি চিঠিতে জবাব চাওয়া হলেও এখনো সন্তোষজনক উত্তর মেলেনি। যদিও কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পুনরাবৃত্তি হওয়া মেনিফেস্টো শনাক্ত করে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কাস্টমস কর্মকর্তাদের সহযোগিতাতেই এসব ট্রাক নিয়মিত কাগজপত্র ছাড়াই দেশে প্রবেশ করছে। বৈধ পথে আমদানিকারকরা এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন। কারণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া পণ্যের দাম তুলনামূলক কম হওয়ায় তা দ্রুত বাজার দখল করছে, যা দেশীয় শিল্পের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খাইরুজ্জামান মধু মনে করেন, ভারতীয় কাস্টমসের ইজিএম (এক্সপার্ট জেনারেল মেনিফেস্টো) যাচাই করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। এতে বোঝা যাবে, কতটি ট্রাক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে, কী কী পণ্য এসেছে এবং ওজন কত ছিল।

অন্যদিকে সাবেক সভাপতি মো. মফিজুর রহমান সজন বলেন, একই মেনিফেস্টো বারবার ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে কসমেটিকস ও ফেব্রিক্সের মতো উচ্চ শুল্কের পণ্য পাচার হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
বেনাপোল স্থল বন্দরের পরিচালক মো. শামীম হোসেন জানিয়েছেন, একই মেনিফেস্টোর বিপরীতে একাধিকবার তথ্য জমা দেওয়ার ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের অসৎ কার্যকলাপ আর না ঘটে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে সহকারী কাস্টমস কমিশনার মো. রাজন হোসেন বলেন, তদন্ত কমিটি কাজ করছে এবং শিগগিরই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দ্রুত তদন্ত শেষ করে দায়ীদের আইনের আওতায় না আনলে এ ধরনের জালিয়াতি দেশের অর্থনীতি ও বৈধ আমদানি-রপ্তানি ব্যবস্থার জন্য আরও বড় বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে।

সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ
© All rights reserved © 2024