মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল যেসব দেশ কিনছে, তাদের ওপরও পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। মূল লক্ষ্য—রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
আগস্টের শুরুতে ট্রাম্প ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। তিনি বলেন, “ভারত রাশিয়ার তেল কেনায় শাস্তি হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।” এতে ভারতের পণ্যে মোট শুল্কহার দাঁড়ায় ৫০ শতাংশ। তবে চীনের বিরুদ্ধে তিনি এখনই একই পদক্ষেপ নেননি, যদিও চীন রাশিয়ার সবচেয়ে বড় জ্বালানি ক্রেতা।
চীনা কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে চীন রাশিয়া থেকে রেকর্ড ১০৯ মিলিয়ন টন তেল আমদানি করেছে, যা তাদের মোট জ্বালানি আমদানির প্রায় ২০ শতাংশ। অন্যদিকে, ভারত ২০২৪ সালে ৮৮ মিলিয়ন টন রুশ তেল কিনেছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়ার যুদ্ধ চালানোর প্রধান অর্থনৈতিক ভরসা এখন চীন।
এই প্রেক্ষাপটে রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট উভয় দল যুক্তরাষ্ট্রে “স্যানকশনিং রাশিয়া অ্যাক্ট ২০২৫” নামের একটি বিল প্রস্তাব করেছে। বিলটি পাস হলে, রাশিয়ার তেল-গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখা দেশগুলোর পণ্যে ট্রাম্প ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন।
তবে চীনের বিরুদ্ধে কবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সে বিষয়ে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি “দুই-তিন সপ্তাহ সময় নিচ্ছেন।” বিশ্লেষকদের মতে, এর কারণ হলো বিরল খনিজকে কেন্দ্র করে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্যচুক্তি খোলা রাখা।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টের অভিযোগ, ভারত রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে প্রক্রিয়াজাত করে পুনরায় বিক্রি করছে। এতে ভারতীয় কোম্পানিগুলো ১৬ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মুনাফা করেছে, যার বড় অংশ গেছে ভারতের শীর্ষ ধনী পরিবারগুলোর কাছে।
হোয়াইট হাউসের উপপ্রধান স্টিফেন মিলার ভারতের এই পদক্ষেপকে “অগ্রহণযোগ্য” বলেছেন। বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারোও অভিযোগ করেছেন, ভারত কার্যত রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নে সহায়তা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপে দেরি করছেন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কারণে। ক্রিসমাস মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা পণ্যের আমদানি বাড়ায় এখনই শুল্ক দিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। এছাড়া সম্প্রতি ট্রাম্প সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানিতে কিছুটা ছাড় দিয়েছেন এবং এনভিডিয়াকে উন্নত চিপ বিক্রির অনুমতি দিয়েছেন।
ওয়াশিংটনের চীনা দূতাবাস অবশ্য বলেছে, রাশিয়ার সঙ্গে তাদের বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বৈধ।
চীনের অর্থনীতি বর্তমানে নানা চাপের মধ্যে আছে। জুলাইয়ে দেশটির কারখানা উৎপাদন, বিনিয়োগ ও খুচরা বিক্রি কমেছে; যুবকদের বেকারত্ব বেড়ে ১৭.৮ শতাংশে পৌঁছেছে। তবে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চীন বিকল্প বাণিজ্যপথ তৈরি করছে, ফলে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ সহজে কার্যকর নাও হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রও চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে নিজ দেশের ভোক্তাদের ওপর মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়বে। যদিও এপ্রিলে দুই দেশের শুল্কযুদ্ধের ফলে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, পরে আলোচনার মাধ্যমে আংশিক শুল্কবিরতি দেওয়া হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নাটকীয় কিছু না ঘটলেও শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে একটি নতুন বাণিজ্যচুক্তি হবে।