বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার করতে নতুন করে ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি প্রায় দেড় দশক ধরে অকার্যকর থাকা বাংলাদেশ-পাকিস্তান জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (জেইসি) পুনরায় কার্যকর করার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) সচিবালয়ে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী জাম কামাল খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এ তথ্য জানান। এর আগে চার দিনের সফরে ঢাকায় আসেন পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী। সফরকালে চারটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের কাছে হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ওপর অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার, চামড়া ও চিনি শিল্পে সহযোগিতা, এবং ১ কোটি কেজি চা রপ্তানিতে ডিউটি ফ্রি সুবিধা পুনর্বহাল চাওয়া হয়। এসব বিষয়ে পাকিস্তান ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে বলে উপদেষ্টা জানিয়েছেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “আমরা খুবই বিস্তৃত আলোচনা করেছি। জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন আবার চালু করা হবে এবং নতুন ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশন গঠন করা হবে। যৌথভাবে কিংবা বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে মধ্যবর্তী পণ্য উৎপাদন হলে উভয় দেশই লাভবান হবে।”
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ প্রতিবছর প্রায় ৮০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে, যার মধ্যে ১৫ বিলিয়ন ডলারের খাদ্য ও ইন্টারমিডিয়েট পণ্য রয়েছে। এসব খাতে পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির বড় সুযোগ আছে।
গত অর্থবছরে বাংলাদেশ পাকিস্তান থেকে আমদানি করেছে ৭৮৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর রপ্তানি করেছে মাত্র ৭৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবর রহমান বলেন, “আমাদের রপ্তানি বাড়ানো এখন জরুরি। পাকিস্তানের প্রতিযোগিতামূলক দরে আমদানি করলে সমস্যা নেই, তবে একই সঙ্গে রপ্তানি বাড়াতে হবে।”
এদিকে সফরকালে পাকিস্তানের বাণিজ্যমন্ত্রী শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ও ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকগুলোতে চিনিশিল্প, চামড়া শিল্প, কৃষি উন্নয়ন, স্টিল ওষুধ এবং জাহাজ নির্মাণ খাতের উন্নয়নে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
জাম কামাল খান বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান উভয় দেশই রপ্তানির ক্ষেত্রে পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের ওপর নির্ভরশীল। তাই দুই দেশেরই রপ্তানি পণ্যে বহুমুখীকরণ প্রয়োজন। এ জন্যই ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কমিশনের মাধ্যমে নতুন সম্ভাবনা খোঁজা হচ্ছে।